জামালপুর প্রতিনিধি-: প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে নিজের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে পাঁচ বছর বয়সী শিশুসন্তানের জননীকে বিয়ে করেছেন ফিনল্যান্ডের এক নাগরিক। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ২৮ বছর বয়সী মেয়ে শান্তিনা জাহান সিমির প্রথম স্বামী প্রায় তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে শান্তিনা জাহান সিমি রায়হান নামের তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী সিমির এক আত্মীয়ের সূত্রে ফিনল্যান্ডের নাগরিক সিমোলা মিকারের (৩৮) সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তারপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনে নিয়মিত তাদের যোগাযোগ হতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসা-প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সূত্রে চলতি মাসের ২ অক্টোবর সিমিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে চলে আসেন সিমোলা মিকার। এ বিষয়ে সিমোলা মিকার ও শান্তিনা জাহান সিমির পরিবারের সম্মতি ছিল। দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই জামালপুর জজ কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সিমোলা মিকার এবং নিজের নামও পরিবর্তন করে সিমোলা মিকার থেকে মিকাইল নাম রাখেন। পরে ধর্মীয় রীতি মেনে ও নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। শুরু হয় সিমি-মিকাইলের নতুন জীবন। মিকাইল ও সিমির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী রোববার মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন। সেখানে গিয়ে সিমি ও তার সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের বিয়ের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে নতুন দম্পতির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকে আবার বলছেন, এটি বিদেশি ছেলেদের একটি চক্রান্ত। স্থানীয় রাব্বি নামের এক যুবক বলেন, আমাদের এলাকায় বিদেশি ছেলে এসে বিয়ে করছে, এটি দেখার জন্য আমরা এসেছি। এলাকায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশের মেয়েরা প্রেম করে বিদেশে যায় না, বিদেশি ছেলেদের বাংলাদেশে নিয়েও আসতে পারে। শান্তিনা জাহান সিমি বলেন, আমি একটা সময় ভাবতাম আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মিকাইল আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। আমি মিকাইলকে পেয়ে অনেক খুশি। আমি নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। ভালোবাসার ক্ষেত্রে মুখের ভাষা কোনো প্রভাব ফেলে না, মনের ভাষাই আসল ভাষা। আমরা দুজন দুজনকে পেয়ে অনেক সুখে আছি। মিকাইল আমার ছেলেকে নিজের ছেলেই মনে করে। শান্তিনা জাহান সিমির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ের জীবনের এই নতুন অধ্যায় দেখে আমি অনেক খুশি। আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটি হয়েছে। আমার মেয়ে ও জামাই যেন সারা জীবন সুখে-শান্তিতে থাকে, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি, জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা লিখিত জানানো হয়নি।
