রাজধানীর গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনা দুঃসহ হয়ে উঠেছে। যেখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে জনস্বার্থ। বিশেষ করে ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো, সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে পুরুষ বসা, ছেঁড়া-ফাটা সিট প্রভৃতি কারণে গণপরিবহন এখন গণভোগান্তির অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উপর তীব্র যানজট তো রয়েছেই। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর রাজধানীতে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় এসেছিল আমূল পরিবর্তন। তবে সময়ের ¯্রােতে বিরাজ করছে আবার সেই পুরোনো বিশৃঙ্খলা। নির্ধারিত স্টপেজে থামছে না বাস। যাত্রীরা ওঠানামা করছেন মাঝ সড়কেই। ফলসূতিতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা। গণপরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে গণপরিবহনের এই বিশৃঙ্খলার দায় বাস চালক ও হেলপারদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও রয়েছে। এজন্য দু’পক্ষকেই নিয়মের আওতায় আনার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর অধিকাংশ স্থানেই নির্দিষ্ট যাত্রীছাউনি বহু দূরের হিসেব, ফুটপাত ঘেঁষে বাস থামিয়েও যাত্রী ওঠানো হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সড়কের মাঝপথেই যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান বা স্টপেজ ছাড়ার পর বাসের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। আবার অন্য স্টপেজে পৌঁছালে দরজা খুলতে হবে। কিন্তু এসবের কিছুই মানছে না পরিবহনগুলো। রাজধানীর সড়কের এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে কী করতে হবে, সেটা অনেক আগ থেকেই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সমাধান যদি আমরা হাতিরঝিলের দিকে তাকাই তাহলেই হয়। সেখানে পুলিশ লাগে না। একই মানের চালক সুন্দরভাবে বাস চালাচ্ছেন। যাত্রীরা হাত তুললেও থামছেন না। নির্ধারিত স্থান থেকেই যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। হাতিরঝিলের এসব বাসচালকরা ঢাকারই। তারা সেখানে পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালায় না। তারা কোনও দুর্ঘটনা করে না। কিন্তু এরাই আবার অন্য সড়কে আসলে আচরণ পাল্টে ফেলে। কারণ, সেখানে সিস্টেমের সমস্যা। হাতিরঝিল প্রকল্প গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঢাকাবাসী সড়কের বিশৃঙ্খলার সমাধান পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা সেটাকে কাজে লাগাইনি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু আশার কথা শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে কাজ হবে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত এবং টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হওয়া একান্ত অপরিহার্য।
