দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
asif
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক -: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু নিজেদের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে। ’
সভায় রাজধানীর চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ^রী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এসব নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে বর্জ্য অপসারণের বিষয়ও আলোচনায় আসে। নদ-নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিত করা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এ পর্যন্ত নেওয়া পরিকল্পনাগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের মূল বিষয় ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথা বলেন তিনি। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সভায় অংশ নেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুস উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন। রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন নিয়ে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
