ঢাকা প্রতিনিধি - হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে ২৫টি আধুনিক এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি)। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি সামান্য পরিমাণের বিস্ফোরক ও মাদকজাতীয় পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ। বেবিচক সূত্র জানায়, নাকটেক টিআর ২০০০ ডিসি মডেলের এসব ইটিডি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থাপন করা হয়েছে। যন্ত্রগুলো অত্যন্ত অল্প পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। ইটিডি মূলত বিভিন্ন বস্তু বা পৃষ্ঠ থেকে সংগৃহীত অতি ক্ষুদ্র নমুনা পরীক্ষা করে সন্দেহজনক পদার্থ শনাক্ত করবে। এতে আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস রয়েছে। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো কিংবা বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনক কোনো পদার্থের উপস্থিতি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত নিরাপত্তা তল্লাশির পাশাপাশি এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। নতুন প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞরা এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষণে ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। এতে ইটিডি পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং নিরাপদভাবে যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেওয়া হয়। বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা বাড়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইটিডি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নয়; বরং এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে।
