সৈয়দপুরে তীব্র গরমের সঙ্গে লোডশেডিং, দুপুরে জনশূন্য শহরের সড়ক
asif
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নীলফামারী প্রতিনিধি : ভাদ্রের তালফাটা রোদে পুড়ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তীব্র রোদ ও প্রচ- গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে কয়েকগুণ। অসহনীয় গরমে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দুপুরের দিকে অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ছে শহরের প্রধান সড়ক ও ব্যস্ত এলাকাগুলো। গতকাল সোমবার দুপুরে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচ- রোদের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অনেককে ছাতা, গামছা কিংবা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে চলাচল করতে দেখা গেছে। পথচারী ও রিকশা-ভ্যানচালকদের অনেকেই গাছের ছায়া কিংবা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে সকাল থেকেই রোদের তেজ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতাও বাড়ে। দুপুরের দিকে রাস্তায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরেও স্বস্তি মিলছে না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। শহরের একজন রিকশাচালক বলেন, সকালে রাস্তায় বের হলে কিছুটা কাজ করা যায়। কিন্তু দুপুরের রোদে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়। শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে, বারবার পানি পান করতে হয়। তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকলে বাসায় গিয়েও শান্তি পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে বেচাকেনায়। দুপুরের সময় ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অনেক দোকানপাটেও অলস সময় কাটছে। শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। গরম থেকে স্বস্তি পেতে শহরের বিভিন্ন স্থানে শরবত, ডাব ও ঠান্ডা পানীয়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে। পথচারীদের অনেকেই বোতলজাত পানি ও শরবত পান করছেন। তবে অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘরে থাকা মানুষজন যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য ও ছোট কারখানার কার্যক্রমেও বিঘœ ঘটছে। শহরের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তীব্র গরমের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া দিনের প্রচ- রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেবে। ভাদ্রের শেষপ্রান্তে এসে তালফাটা রোদের তীব্রতায় সৈয়দপুরের জনজীবন যেন হাঁসফাঁস করছে। কবে মিলবে এই গরম থেকে স্বস্তি।
