শেরপুরে দুই নেত্রীর মারামারির ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
asif
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
বগুড়া প্রতিনিধি-: বগুড়ার শেরপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব ও সরকারি প্রকল্পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই নেত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, শ্লীলতাহানি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর শেরপুর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দীপা রানী বর্মণ সংগঠনের কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাদ্দের চাহিদা পাঠাতে উপজেলা পরিষদে গেলে প্রতিপক্ষ আদিবাসী পরিষদের নেত্রী লক্ষ্মী রানী দাস ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায়। দীপা রানীর দাবি, তাকে প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও জরুরি কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মী রানী দাস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘দীপা রানী ও তার স্বামী আমাকে উপজেলা গেটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রথমে আক্রমণ করে। দীপা রানী আমার গায়ে আগে হাত তোলায় আমি ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে জুতা খুলে তাকে পিটিয়েছি। আমি কোনো ব্যাগ বা টাকা নিইনি, আমাকে আগে মারার কারণেই আমি জুতা দিয়ে তাকে পাল্টা মেরেছি। আমার বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত আদিবাসী পরিষদের নেতা বাসুদেব রায় বাগদী বলেন, ‘লক্ষ্মী রানী দাস যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা হামলার শিকার হয়ে থানায় আগে অভিযোগ করেছি, তারা কেবল আমাদের হয়রানি করতেই এই পাল্টা মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে।’ আরেক অভিযুক্ত বাবলু রবিদাস তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম ঠিকই, কিন্তু কেবল মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি। আমি কোনো ব্যাগ বা টাকা নিইনি। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে দীপা রানী এই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন।’ এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের দুই পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তাদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল উপজেলা পরিষদ এলাকা, তাই আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
