Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট নগর পরিবহণে বিশৃঙ্খলা দূর হোক

asif

asif

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট  নগর পরিবহণে বিশৃঙ্খলা দূর হোক

বাংলাদেশের নগর পরিবহণ আজ এক নতুন বিশৃঙ্খলার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। গণপরিবহণের সংকট, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সহজ উপায় হিসেবে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও, অনুমোদিত নকশা, আইনি নিবন্ধন এবং চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়া সড়কে নামা এই বাহন এখন নগরজীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।  অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক, ব্যস্ত মোড়, এমনকি উড়ালসড়কেও ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দেখা যায়। অনভিজ্ঞ চালকের বেপরোয়া গতি, ভুল লেনে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাÑসব মিলিয়ে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ প্রতিনিয়ত স্থবির হয়ে পড়ছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, আর জনভোগান্তি প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।  সরকারি কোনো সংস্থার কাছে এ যানবাহনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। বিভিন্ন সংগঠনের মতে, কেবল রাজধানীতেই লাখের বেশি ই-রিকশা চলছে এবং প্রতিদিন নতুন যান যুক্ত হচ্ছে। গত দেড় দশকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা, উচ্ছেদ অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং দুর্বল প্রয়োগের কারণে কোনো উদ্যোগই স্থায়ী হয়নি। ফলে বৈধ ব্যবস্থার বাইরে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যা নগর পরিবহণকে আরও জটিল করে তুলছে।  অভিযানে চালকদের জরিমানা করা হলেও অবৈধ রিকশা প্রস্তুতকারক, গ্যারেজ মালিক ও নেপথ্যের বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে গণপরিবহণের সংকট এবং ফুটপাতের অচলাবস্থার কারণে মানুষ ই-রিকশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এ নির্ভরতা সমস্যাটিকে আরও গভীর করছে।  আমরা মনে করি, এ সংকট নিরসনে হুটহাট উচ্ছেদ বা ঢালাও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। চালকদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। লাখ লাখ দরিদ্র মানুষের রুটিরুজি যেখানে সরাসরি এ খাতের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে হঠাৎ সব বন্ধ করে দিলে তা নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে। তাই চালকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিবন্ধিত অন্যান্য বাহনে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে।  একইসঙ্গে মানুষকে হাঁটার সুযোগ দিতে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে হবে, সাইকেল চলাচলের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে এবং নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। নগর পরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারকে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।  ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট শুধু সড়ক নিরাপত্তার জন্য নয়, নগরজীবনের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্যও হুমকি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ বিশৃঙ্খলা আরও গভীর হবে। 
 

সম্পর্কিত খবর

নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা

নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ভোক্তার জীবনে চাপ কমাতে হবে

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ভোক্তার জীবনে চাপ কমাতে হবে

ডেঙ্গু বাড়ছে নিয়ন্ত্রণে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন দরকার

ডেঙ্গু বাড়ছে নিয়ন্ত্রণে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন দরকার

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে বিষাক্ত ধাতু আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে বিষাক্ত ধাতু আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে

মানবপাচার রোধে দ্রুত কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে

মানবপাচার রোধে দ্রুত কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে

অপরাধের বিস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

অপরাধের বিস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম