ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক-প্রায় সর্বত্রই বৈদ্যুতিক খুঁটি, সড়কবাতির খুঁটি ও গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইন্টারনেট, কেবল টিভি ও টেলিফোনের অসংখ্য তার। কোথাও তারগুলো জট পাকিয়ে ঝুলে আছে, কোথাও আবার গাছের ডালপালা ঘিরে এমনভাবে পেঁচানো যে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই কোনটি কোন সংযোগের। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে তার টানার ফলে রাজধানীর আকাশ যেন তারের জালে ঢাকা পড়েছে। এতে শুধু নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে না, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং নাগরিক ভোগান্তি। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অপসারণ অভিযান চালানোর পরও তারের জঞ্জাল কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছেনা। এই সমস্যার বড় কারণ হলো, ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। একাধিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান একই খুঁটি ব্যবহার করে নিজেদের তার টানছে। পুরোনো বা অচল সংযোগের তারও অনেক ক্ষেত্রে সরানো হচ্ছেনা। ফলে নতুন সংযোগের সঙ্গে পুরোনো তার যুক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল জট। অনেক জায়গায় এসব তার বিদ্যুতের তারের খুব কাছাকাছি কিংবা তারের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকে, এতে করে অতিরিক্ত তারের ভারে অনেক সময়ই তারগুলো ছিঁড়ে পড়ে থাকছে রাস্তার পাশে। তারের জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগ যে একেবারে নেওয়া হয়নি, তা নয়। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অভিযান ও সাময়িকভাবে তার কেটে দেওয়া হলেও এই সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। দেখা যায় একদিকে সিটি কর্পোরেশন ঝুলন্ত তার অপসারণের উদ্যোগ নেয়, অন্যদিকে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবাদাতারা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তার কাটার বিরোধিতা করেন। তাঁদের যুক্তি, স্থায়ী সংযোগব্যবস্থা তৈরি না করে তার অপসারণ করলে গ্রাহকের সেবা ব্যাহত হবে। এ অবস্থায় প্রথমেই রাজধানীর সব এলাকায় ঝুলন্ত তারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানের কতটি তার রয়েছে, কোনটি সচল আর কোনটি অচল-তা চিহ্নিত করে প্রতিটি সংযোগের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম করতে হবে। অচল ও পরিত্যক্ত তার দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। বড় সড়ক থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে অলিগলির তারও ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থায় নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন করে যত্রতত্র তার টানা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইন্টারনেট ও কেবল টিভি এখন নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সেবা। তাই তার অপসারণ করতে গিয়ে যেন গ্রাহকসেবা বন্ধ না হয়, আবার সেবার অজুহাতে অপরিকল্পিত তারের জঞ্জালও যেন চলতে না পারে। এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করেই কর্তিপক্ষকে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে। রাজধানীর তারের জঞ্জালমুক্ত করা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল নগরব্যবস্থার সঙ্গেও সমানভাবে জড়িত।
