বিশেষ প্রতিনিধি - বাংলাদেশ থেকে ওমান ১০ হাজার কর্মী নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী দেশটি বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবীসহ মোট ১০ হাজার কর্মী নেবে। আগামী মাসে ওমান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবে। ওই সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে নানা কারণে ওমানের ভিসা বন্ধ ছিল। তবে বর্তমান সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আবারও নিয়মিত ভিসা চালুর চেষ্টা করছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে, যাতে ওমানও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছিলেন। যেহেতু ওই দেশে এ ধরনের আন্দোলন আইনত নিষিদ্ধ, তাই দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে জেলে যেতে হয়। তবে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় তাদের মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সেখানে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ বা অটো-ক্যান্সেলেশন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তা সমাধানে অন্যান্য দেশ যেমন, পাকিস্তান, নেপালের মতো বাংলাদেশও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো ইতিবাচক প্রস্তাব বা পরামর্শ আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। দেশের জন্য ভালো হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর স্বাধীনভাবে তদারকির প্রস্তাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মামলাগুলোও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান থেকে শুরু করে লাখ লাখ নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো ইতিবাচক প্রস্তাব বা পরামর্শ আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে এবং দেশের জন্য ভালো হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মিলান কনস্যুলেট এবং রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে শিল্পী বাঁধনের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং মামলা দায়েরসহ সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করছেন। প্রবাসীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা যখন বিদেশে থাকবেন, তখন অবশ্যই তাদের ওই দেশের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। সেটা আমেরিকা, লন্ডন বা ইতালি-যেখানেই হোক না কেন। বিদেশে যেকোনো ধরনের মব ভায়োলেন্স বা অরাজকতা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। সরকার এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
