দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি: অস্ত্র সরবরাহে অভিযুক্ত ২ নারী কারাগারে
asif
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি: অস্ত্র সরবরাহে অভিযুক্ত ২ নারী কারাগারে
ঢাক প্রতিনিধি - রাজধানীর কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় অস্ত্র ও গুলি সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য জানান। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কাচকুড়ার বগবাড়ির মোড় এলাকা থেকে রুনিয়াকে এবং বিকাল ৫টার দিকে সোনিয়াকে উত্তরখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই মিঠু মন্ডল আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার ভুক্তভোগী আসলাম খান কদমতলী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়া জিয়া সরণি রোডের মেসার্স লাখি ক্রোকারিজ নামের দোকানের স্বত্বাধিকারী। আসলাম খান ও এ মামলার আসামি জলিল মন্ডলের মধ্যে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জেরে জলিল মন্ডল আসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ আসামিসহ অন্যান্য আসামিকে আসলামকে হত্যার হুকুম দেওয়া হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে আসলাম খান দোকানে বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকাকালে আসামিরা মামলায় ব্যবহৃত পিস্তল, রিভলবার ও গুলি বহন করে রিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসে। আরও বলা হয়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসামি আকলিমা ও সোনিয়া ওই অস্ত্র ও গুলি কামাল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করেন বলে আসামিরা জানায়। তারা আসামি মঞ্জুরুল ও জসিমের সঙ্গে কামালের কদমতলী থানাধীন জুরাইন বউবাজার বান্দুরার গলির বাসায় অবস্থান করেন এবং কামাল তাদের ওই মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করেন। তারা ওই অস্ত্রগুলো ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে শনিরআখড়া ফ্লাইওভারের নিচে মঞ্জুরুল ও জসিমকে দেন। সোনিয়া জসিমের ভাতিজা। আসামিদের সরবরাহ করা অস্ত্র ও গুলি দিয়ে মঞ্জুরুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসলামের দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। মঞ্জুরুলের ছোড়া গুলিতে আসলামের ডান চোয়ালে ও বাম হাতের বাহুতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি আত্মরক্ষার্থে তার দোকানের চামুচের ঝাড়ু ছুড়ে মেরে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। তখন ওই আসামির সঙ্গীয় জসিম হাতে থাকা পিস্তল নিয়ে দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন এবং ঘটনাস্থলের অদূরে থাকা টহল পুলিশ সদস্যরা লোকজনের চেঁচামেচি ও গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে আসতে থাকেন। মঞ্জুরুল ও জসিম ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও টহলরত পুলিশ সদস্যরা মঞ্জুরুলকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ৯ রাউন্ড গুলি এবং ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড ফায়ারকৃত গুলির খোসাসহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। তবে অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যায়। আসলাম খানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরদিন তার শ্বশুর বাদল মিয়া কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পরদিন মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইকবাল কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঞ্জুরুলকে রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
