Logo
Logo
×

সারাদেশ

বাঘায় বিচ্ছিন্ন চরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা

asif

asif

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

বাঘায় বিচ্ছিন্ন চরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা

রাজশাহী প্রতিনিধি - রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিচ্ছিন্ন চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মধ্যে অবহেলিত চৌমাদিয়া, আতারপাড়া ও দিয়াড়কাদিরপুর। এই তিনটি চরে বসবাসকারীদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। তাদের উপজেলা সদরের সাথে যাতায়াত করতে হয় নৌকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরের মানুষ প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পারাপার হন। চৌমাদিয়া, আতারপাড়া ও দিয়াড়কাদিরপুর চরের মানুষকে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে চৌমাদিয়া ঘাটে আসতে হয়। এখান থেকে পদ্মা নদী পার হয়ে গোকুলপুর ঘাটে পৌঁছান। তারপর সেখান থেকে ভ্যানযোগে উপজেলা সদরে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট। বর্ষাকালে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। বছরের অর্ধেকটা সময় পদ্মা নদী উত্তাল থাকে। উত্তাল পদ্মা নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গত শনিবার সকাল ১১টায় পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার সময় কথা হয় চৌমাদিয়া চরের সোলেমান হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমে পায়ে হেঁটে ঘাটে আসতে হয়। তারপর নৌকায় পার হতে হয়। গোকুলপুর ঘাটে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্রিজ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়া ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবদুর রহমান বলেন, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া ও দিয়াড়কাদিরপুর চর চকরাজাপুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড। এর মধ্যে ১ নম্বর আতারপাড়ায় ভোটার সংখ্যা ৩৭৩। ২ নম্বর ওয়ার্ড চৌমাদিয়ায় ভোটার সংখ্যা ৫৫৬। ৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়াড়কাদিরপুরে ভোটার সংখ্যা ৯৮৭। এই তিনটি ওয়ার্ডে পরিবার রয়েছে প্রায় ৭৫০টি। জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০ জন। এ তিনটি চরে মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যেই আবার অসময়ে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। এই ভাঙনের কারণে দুই শতাধিক পরিবার তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। তাদের ঘর নির্মাণের জন্য কোনো টাকা না থাকায় অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। প্রতি বছর ১লা বৈশাখে খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রীসহ অনেক মোটরসাইকেল পারাপার হয়। স্বল্প সময়ে কুষ্টিয়া ও রাজশাহী অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য অনেকে এই ঘাট ব্যবহার করেন। তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। রাজশাহী শহরে ডাক্তার দেখানোর জন্য যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকার আরিফুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, বাসে যেতে হলে দুই-তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। স্বল্প সময়ে যাতায়াতের জন্য এই খেয়াঘাট দিয়ে আসা-যাওয়া করি। কুষ্টিয়া থেকে এই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গোকুলপুর খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি সাজামাল হোসেন ও নিয়ারুল ইসলাম বলেন, এই খেয়াঘাটের প্রতিটি নৌকায় দুজন করে শ্রমিক রয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। তবে নদীর ওপর সেতু করলে যোগাযোগব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। এদিকে চকরাজাপুর, লক্ষ্মীনগর, কালিদাসখালী, পলাশিফতেপুর, হবিরচর নিচফলাশি ফতেপুর, আম বাগান চর, দাদপুরসহ আটটি চরের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে হালিম মাস্টারের ঘাটে একটি ব্রিজের জন্য আবেদন করেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এ আটটি চরের মানুষকে ৫০ মিটার পদ্মা নদীর ক্যানেল পার হতে সময় ও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এখানে একটি ব্রিজের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
 

সম্পর্কিত খবর

বিলীন হচ্ছে দেশীয় মাছ, হারাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতি

বিলীন হচ্ছে দেশীয় মাছ, হারাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতি

মহাদেবপুরে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ

মহাদেবপুরে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ

মোল্লাহাটে সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মোল্লাহাটে সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মান্দায় দুর্নীতির দায়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

মান্দায় দুর্নীতির দায়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত, ছেলে পলাতক

নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের বটির কোপে বাবা নিহত, ছেলে পলাতক

রাজারহাটে ৮টি ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই, বেহাল ডাকসেবা

রাজারহাটে ৮টি ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই, বেহাল ডাকসেবা

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম