২০১৮ সালের বহুল আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বল-টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর কেটে গেছে কয়েক বছর। দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারও একটি টেস্ট সিরিজ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ঠিক এই মুহূর্তে তৎকালীন সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক যন্ত্রণা ও ক্যানবেরা-সিডনির কঠোর প্রতিক্রিয়ার স্মৃতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অজি ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মিথ জানান, সেই ঘটনার পর আজও ট্রমা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি তিনি। ক্যামেরা ও গণমাধ্যমের চাপ তাকে কতটা আতঙ্কিত করে, তা তুলে ধরে স্মিথ বলেন, ‘আমি খুব একটা ক্যামেরা পছন্দ করি না। সত্য বলতে, ক্যামেরার সামনে গেলে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। ঘটনাটি আমার জীবনের একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা ছিল। এখনও যখন কোনো ক্যামেরার ফ্ল্যাশের শব্দ শুনি, সেটা আমাকে কোনো না কোনোভাবে আবার সেই কঠিন স্মৃতিতেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’ ঘটনার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরার মুহূর্তটিকে স্মিথ অত্যন্ত অসহায় ও সুরক্ষাহীন মনে করেছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন সিইও জেমস সাদারল্যান্ডের সাথে কথা বলা ও তার পরবর্তী অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জেমস সাদারল্যান্ড আমাকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার কথা জানানোর পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়টা ছিল কঠিন। জোহানেসবার্গ বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশ থেকে যেভাবে ঘিরে ধরা হয়েছিল, আর দেশে ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলন করা... এর কিছু কিছু ঝলক এখনও আমার মনে ভেসে ওঠে। আমার মনে হয়েছিল জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে আমাকে যেন নেকড়েদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ ছিল না।’ কঠিন সেই মানসিক চাপ ও বছরের পর বছর ধরে প্রতিপক্ষের দর্শকদের থেকে পাওয়া দুয়োধ্বনি কীভাবে সামলেছেন, তা নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ঠিক শুরুর দিনগুলো ছিল ভয়ংকর কঠিন। যে মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে আমি গেছি, তা মোটেও ভালো ছিল না। আমি জীবন থেকে ২০১৮ সালের সেই অধ্যায়টি প্রায় মুছে ফেলতে চেয়েছি এবং অনেক স্মৃতিই ব্লক করে রাখার চেষ্টা করেছি।’ ২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বল-টেম্পারিংয়ের দায়ে স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে ১ বছর এবং ক্যামেরন বেনক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৯ সালে দলে ফিরে স্মিথ নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও সেরা ব্যাটারদের সারিতে জায়গা করে নেন। এমনকি প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্বও দেন স্মিথ।
