Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করতে হবে

asif

asif

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করতে হবে

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই সংকটে নাজেহাল দেশের মানুষ ও শিল্প খাত। সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় বন্ধ। রাশিয়ার সরবরাহও সীমিত হয়ে পড়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর এলএনজির মজুত কমে গেছে। তারা অনেকটা আগ্রাসীভাবে খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো প্রয়োজনমতো এলএনজি কিনতে পারছে না। এদিকে সরকার নিয়মিত সরবরাহকারীর বাইরে কিছু সরবরাহকারীর সঙ্গে এলএনজি কেনার চুক্তি করেছে, যারা আসলে পরীক্ষিত নয়। তারা যথাসময়ে সরবরাহ করছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট উত্তরণ ছাড়া অর্থনীতির কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব নয়। তারেক রহমানের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে হলে প্রথমেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং এ খাতের পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সংকট উত্তরণের প্রথম ধাপ হচ্ছেÑ সংকটের প্রকৃতি অনুধাবন করে তা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মনোযোগ দেয়া। কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে অবস্থার বেশ কিছু অগ্রগতি ও আশাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে জ্বালানি সংকট উত্তরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন। দেশে আগামী নভেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমবে। তখন বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে। ফলে সরকারকে মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরÑএই দুই মাসে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে, শিল্প খাতকে বাঁচাতে হবে। মধ্য মেয়াদে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিকল্প নেই। দেশে গ্যাসের মজুত আছে ৭ টিসিএফ (লাখ কোটি ঘনফুট)। তা নিয়ে সাত বছরের মতো চলা যাবে। কিন্তু যে পরিমাণ কয়লা আছে, তা দিয়ে বহু বছর চলা যাবে। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে দিয়ে লাভ কী, যেখানে জ্বালানির কারণে পুরো দেশই সংকটে পড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হওয়া উচিত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান। সমুদ্রের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। দীর্ঘ মেয়াদে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) নিয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার। 
 

সম্পর্কিত খবর

ঢাকার আকাশজুড়ে তারের জঞ্জাল

ঢাকার আকাশজুড়ে তারের জঞ্জাল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম