Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকা- পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি

asif

asif

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকা- পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত হন। তবে কিছু মৃত্যুর ঘটনা পরিবার বা সমাজের গ-ি পেরিয়ে সারা দেশের মানুষকেই বেদনার্ত করে। কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ১০ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা দেশবাসীর হৃদয় বিদীর্ণ করেছে। সেখানে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তবে নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ আরও একজনের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চলছে। এই দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্বজন হারানোর এই বেদনা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সমুদ্রের তীব্র বাতাস আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত ও আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না বলে জানা গেছে। আরো উদ্বেগের খবর হলো, শুধু এই রিসোর্ট নয়, কক্সবাজারজুড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগেরই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা। অন্যদিকে এসব নজরদারির দায়িত্বে থাকা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে, পর্যটনশিল্পের প্রসারে আমরা যখন বিনিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রচারণার কথা বলছি, তখন পর্যটক ও কর্মীদের জীবন রক্ষায় নিশ্চয়তা কতটা দিতে পারছি? এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিসোর্টটিকে আগেই সতর্ক করেছিল, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী ছিল? সতর্কবার্তার পরও যদি ঝুঁকি দূর না করে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হয়, তাহলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, তদারকির ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনার পর কিছুদিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তোড়জোড় দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবারও একই অবস্থা। সংগত কারণেই এমন ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলার সুযোগ নেই। শুধু কক্সবাজার নয়, খোঁজ নিলে দেশের অনেক হোটেল-রিসোর্টেও এমন ত্রুটি পাওয়া যাবে। কাজেই পর্যটনশিল্পের বিকাশে এসব ত্রুটি দূর করা একান্ত জরুরি। 
 

সম্পর্কিত খবর

ঢাকার আকাশজুড়ে তারের জঞ্জাল

ঢাকার আকাশজুড়ে তারের জঞ্জাল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কালো অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ করতে হবে

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

অপারেটর নয়, আগে ভাবতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম