ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি
asif
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
মলাশয়ের ক্যানসারে (রেকটাল ক্যানসার) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জাপানি-কোরিয়ান অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি। ৪৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে অভিনেত্রীর এজেন্সি আলফা। ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৩ বছর আগে নাকামুরা ইউরির শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। তখন তিনি ও এজেন্সির প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন, কর্মক্ষেত্রে তার অসুস্থতার কথা প্রকাশ করা হবে না। কারণ, এতে সহকর্মীরা অপ্রয়োজনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও অব্যাহত রাখেন নাকামুরা ইউরি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবারও তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষায় জানা যায়, রোগটি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে তখন ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে মনোযোগ দেন অভিনেত্রী। এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আরও দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। চিকিৎসকের উৎসাহে অসুস্থতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যান তিনি। তবে চলতি বছরের আগস্টে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হলে নিজের জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে বলে জানতে পারেন নাকামুরা ইউরি। এজেন্সি জানিয়েছে, খবরটি তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে গ্রহণ করেছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময়ও তার মুখে ছিল সুন্দর ও ¯িœগ্ধ হাসি। অভিনয়ে আসার আগে সংগীতের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন নাকামুরা ইউরি। ১৯৯৬ সালে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আছায়ান’-এ গান গাওয়ার অডিশনে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে বান্ধবী মারি ইজাওয়ার সঙ্গে ‘ইউরিমারি’ নামে সংগীতজুটি গড়ে তোলেন। ১৯৯৮ সালে জুটিটির অভিষেক হলেও এক বছর পরই তা ভেঙে যায়। এরপর অভিনয়ে মনোযোগ দেন নাকামুরা ইউরি। ২০০০ ও ২০১০ এর দশকে উৎসবমুখী সিনেমার পাশাপাশি মূলধারার বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আফটার দ্য স্টর্ম’ (২০১৬), দুর্যোগভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ফুকুশিমা ৫০’ (২০২০) এবং সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘আর্ক’ (২০২১)। এ ছাড়া নেটফ্লিক্সের ‘বিয়ন্ড গুডবাই’ (২০২৪) এবং ‘রোমান্টিকস অ্যানোনিমাস’ (২০২৫) সিরিজেও অভিনয় করেছেন নাকামুরা ইউরি। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যুতে জাপানি বিনোদন অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে।
