আল কোরআন
সূরা নমল
পারা ১৯-২০, আয়াত ৯৩, রুকু ৭ (মাক্কী)
৪৬. সালেহ ওদের বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণকে ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছ না কেন? ক্ষমা চাইলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহভাজন হবে।’
৪৭. সম্প্রদায়ের নেতারা বলল, ‘তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদেরকে আমরা অশুভ ও অকল্যাণের প্রতীক মনে করি।’ জবাবে সালেহ বলল, ‘তোমাদের শুভাশুভের এখতিয়ার তো আল্লাহর হাতে। এটা তো তোমাদের জন্যে এক পরীক্ষা।’
৪৮-৪৯. সেই জনপদে নয় জন গোত্রপতি ক্রমাগত ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করত এবং নিজেদের শুধরে নেয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ ছিল না। ওরা পরস্পরকে বলল, ‘চলো, আমরা আল্লাহর নামে শপথ করি যে, আমরা রাতে পরিবার-পরিজনসহ তাকে হত্যা করব। তারপর তার নিকটাত্মীয়দের কাছে জোর দিয়ে বলব, তাদের মেরে ফেলতে আমরা কাউকে দেখি নি। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি।’
আল হাদিস
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১১৯৮
ইবনু ‘আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত-
তিনি তাঁর খালা মুমিনদের মা মাইমূনা (রা:)-এর ঘরে রাত কাটালেন। আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিণী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন।
অত:পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মধ্যরাত বা তার কিছু আগ বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। অত:পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জেগে উঠে বসলেন এবং দুটি হাতে মুখম-ল মুছে ঘুমের রেশ দূর করলেন। অত:পর তিনি সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে অজু করে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:) বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেমন করেছিলেন, আমিও তেমন করলাম। অত:পর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কানে মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তাঁর পিছন হতে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন)। তিনি তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অত:পর দুই রাকাত, অত:পর দুই রাকাত, অত:পর দুই রাকাত, অত:পর দুই রাকাত, অত:পর দুই রাকাত, অত:পর (দুই রাকাতের সাথে আর এক রাকাত দ্বারা বেজোড় করে) বিতর আদায় করে শুয়ে পড়লেন।
শেষে (ফজরের জামাআতের জন্য) মুয়াজ্জিন এলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাতে) দুই রাকাত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করলেন। অত:পর বেরিয়ে গেলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।
