Logo
Logo
×

ইসলাম ও জীবন

জুমার দিন আসরের পর বিশেষ আমল ও তার ফজিলত

asif

asif

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

জুমার দিন আসরের পর বিশেষ আমল ও তার ফজিলত

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে এ দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়কে দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
অর্থ: তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

আরেক হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন-
فِيهَا سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ
অর্থ: জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)

আসরের পর দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব
বিভিন্ন হাদিসের আলোকে অনেক আলেম জুমার দিনের আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ সময়ে নামাজ, দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারে ব্যস্ত থাকা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ
অর্থ: জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তোমরা তা আসরের পরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

আসরের পর ৮০ বার যে দরুদ পড়ার কথা বলা হয়
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাযের পর নিজের স্থানে বসে ৮০ বার দুরুদটি পড়বে, তার ৮০ বছরের গোনাহ্ মাফ হবে এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের ইবাদত-বন্দেগীর সওয়াব লেখা হবে। জুমার দিন আসরের নামাজের পর একটি নির্দিষ্ট দরুদ ৮০ বার পড়ার প্রচলিত দরুদটি হলো-
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلٰى آلِهِ وَسَلِّمْ تَسْلِيْمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিনিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া ‘আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।
অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মি নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

তবে জুমার দিন আসরের পর এই দরুদ ৮০ বার পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ এবং ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে-এ মর্মে যে বর্ণনাটি প্রচলিত, সেটিকে সহিহ হাদিস হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। এটি সহিহ বুখারি বা সহিহ মুসলিমের হাদিস নয়। তাই নিশ্চিত সহিহ হাদিসের মর্যাদা দিয়ে এ ফজিলত প্রচার না করাই উত্তম। তবে জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই নির্দিষ্ট ওই ফজিলতকে নিশ্চিত দাবি না করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দোয়া ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে। জুমার দিনের এই মর্যাদাপূর্ণ সময়ে নিজের, পরিবার ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

আল কোরআন ও আল হাদিস

আল কোরআন ও আল হাদিস

সৎ ভাবে ব্যবসা করলে যে ৪টি পুরস্কার মিলবে আখিরাতে

সৎ ভাবে ব্যবসা করলে যে ৪টি পুরস্কার মিলবে আখিরাতে

সৌদিতে পাওয়া গেলো ১৩০০ বছর আগের মসজিদের সন্ধান

সৌদিতে পাওয়া গেলো ১৩০০ বছর আগের মসজিদের সন্ধান

ইসলামে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি

ইসলামে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি

জুমার নামাজের পর যা করতেন রাসুল (সা.)

জুমার নামাজের পর যা করতেন রাসুল (সা.)

রিজিক বাড়াতে কোরআনে বর্ণিত দোয়া

রিজিক বাড়াতে কোরআনে বর্ণিত দোয়া

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম