আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
asif
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধি - আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নত করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি জনগণই বলবে। সোমবার সচিবালয়ে পে-স্কেল নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টা জনগণ বলবে। আমরা তো সবসময় বলবো, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে পেরেছি। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি করার জন্য আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগও প্রশংসনীয় হয়েছে। আমরা আশা করি, ১৮০ দিনের মধ্যে সরকারের বাস্তবায়িত এবং শুরু করা অনেক কর্মসূচি প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকা-ের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কয়েকটি সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলসহ বিশ্বজুড়ে সংকট তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু আমরা দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত কোনো জ্বালানি তেল বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করিনি। মাঝেমধ্যে বিভিন্নভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বা বিভিন্ন রকম স্বাভাবিক সমস্যা হয়। গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের যে আমদানি নির্ভরতা বিগত ‘‘ফ্যাসিবাদী’’ সরকারের সময় সৃষ্টি হয়ে গেছে, এখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসার জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর-অনশোরে গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছি। তাতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আশা করা যায়, আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদেই এই গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান করতে পারবো। সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফের বিষয়টি প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। আমি খাদ্য প্রকিউরমেন্ট কমিটির জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি এবং আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বিল্ড হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকা-ের সার্বিক অগ্রগতি সংকলন করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যে অগ্রগতি ১৮০ দিনের মধ্যে আমরা করতে পেরেছি, সেগুলো কম্পাইল করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশন থেকে মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করবো, আশা করি। এদিকে, বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা চলছেÑ এমন একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি তিনি এখনও পড়েননি। শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা চলছেÑ এমন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এখনও প্রতিবেদনটি পড়িনি। আমি শুনেছি। ওখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারবো না। বিষয়টি সরকার আমলে নিয়েছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্টও এখনও পড়িনি। এ ছাড়া আমি যতটুকু পত্রিকান্তরে শুনেছি, সেখানে বলা হয়েছে যে তারা এটা অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। অনুমান নিয়ে কোনো রিপোর্টের ওপর আমরা অ্যাকশন নিতে পারি না। এদিকে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকা-ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সংকলন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের ধর্মীয় ব্যক্তিদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয় অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যে অগ্রগতি ১৮০ দিনের মধ্যে আমরা করতে পেরেছি, সেগুলো কম্পাইল করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশন থেকে অথবা একটা কম্পাইল করে মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করবো আশা করি। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা বাংলাদেশে ছোট ও গোপন সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো সক্রিয় ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেÑ এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনের এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
