Logo
Logo
×

জাতীয়

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতে

asif

asif

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতে

বিশেষ প্রতিনিধি - ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে এসব রিকশার ব্যাটারি সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতার, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরী। সভায় সরকারি দফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। তবে সৌর বিদ্যুতের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি রিচার্জ করা হলে সেই রিকশাকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তারা যে রিচার্জ করবে, অবশ্যই সৌরবিদ্যুতে হতে হবে এবং সেটা নিশ্চিত করবে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলো। আমরা বিধিমালা তৈরির জন্য একটা মিটিং করেছি, আমরা বিধিমালা করছি। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার আওতায় রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করছি। সেখানে কিছু শর্ত দেওয়া হবে। সৌরবিদ্যুতের বাইরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশালোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেবো না এবং নবায়ন করবো না। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, এদের রেজিস্ট্রেশন এখন থেকে বিআরটিএ দেবে না, সিটি কর্পোরেশন দেবে এবং জাতীয় সংসদে এটার জন্য আইন পাস করা আছে। সেই আইনের আলোকে আমরা বিধিমালা তৈরি করছি। রেজিস্ট্রেশন ফি কত হবে? নবায়ন ফি কত হবে? রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের যে পূর্বশর্ত আমরা দিয়েছি, সেটি হচ্ছে বুয়েট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি এবং জেলা পর্যায়ে আমাদের যে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটগুলো আছে সেখানকার অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে এবং এই ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো একটা ফি পাবে। তিনি বলেন, এটাও আমরা নির্ধারণ করে দেবো এবং সেই ফির মাধ্যমে তারা ফিটনেস সার্টিফিকেটটা পাবেন। সেটা নিয়ে এসে এটা সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাকে দিলে আমরা একটা ফি নির্ধারণ করে দেবো, সেই ফি নিয়ে তারা তাদের রেজিস্ট্রেশন দেবেন। এক বছর শেষে গিয়ে আবার যখন নবায়ন নেবে, তখনও ফিটনেসটি দেখাতে হবে এবং নতুন করে নবায়ন করে নিতে হবে। শাহে আলম বলেন, ঢাকাকে আমরা একটু সুন্দরভাবে সাজানোর জন্যে আটটা জোনে বিভক্ত করছি। দক্ষিণে ও উত্তরে চারটি করে জোন হবে। এই আটটি জোনের রিকশাকে আমরা ই-রিকশা বলছি। আইনে ই-রিকশাই বলা আছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব রিকশার আটটি জোনে আটটি রং থাকবে। একটি জোনের ই-রিকশা বা ইলেকট্রিক রিকশা আরেকটি জোনে যেতে না পারে, এ জন্য আলাদা আলাদা কালারও থাকবে। এগুলোকে ইফেন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা নিয়ে আসবো। জিও ফেন্সিংয়ের আওতায় নিয়ে আসবো। এটা নিয়ে অলরেডি ট্রাফিক পুলিশ ও আমাদের সিটি কর্পোরেশন মিটিং করেছে। আমাদের বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিধিমালাটি অনুমোদন হলেই বিস্তারিত জানাবো। এটা জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করা জন্য সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথ উদ্যোগ নেবে। কে কোন রুট ব্যবহার করতে পারবে বা পারবে না এটাও বিধিমালাতে থাকবে। সৌর বিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে সেটাও আইনে থাকবে। এ সমস্ত বিষয় নিয়েই আমাদের একটা বিধিমালার কাজ তৈরি চলছে। আগামী সপ্তাহে আমরা এটা দিয়ে দিতে পারবো। এদিকে, প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের সব অফিসে পর্যায়ক্রমে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ সভা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের যত হেড অফিস এবং মাঠ পর্যায়ের অফিস আছে, আমরা পর্যায়ক্রমে রুফটপে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আমাদের যে অফিসে যে কয় কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, সেটা নিশ্চিত করবো। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোনো অফিস উৎপাদন করলে, আমরা সেটা আবার জাতীয় গ্রিডে যেন দেওয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা রয়েছে, পৌরসভার রয়েছে, জেলা পরিষদ রয়েছে, সিটি করপোরেশনগুলোর রয়েছে। তাদের রুফটপে অফিসগুলোতে যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যয় হবে, এই ব্যয় মেটাতে তারা সক্ষম। এরপরও যদি কোনো স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যয় মেটাতে অক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাধারণ বরাদ্দের পাশাপাশি আমাদের যে বিশেষ বরাদ্দ আছে, প্রয়োজনে তাদের যদি ৫ লাখ, ৬ লাখ, ৭ লাখ বা ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়, আমরা বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই অর্থ তাদের দিয়ে দেবো। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি এবং আরেকটি কমিটি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে। কমিটি সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে কোন অফিসে কী ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং এর ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের সঙ্গে এই কমিটি বসে মূল্যগুলো নির্ধারণ করে নেবে। কোন অফিসে কী ধরনের মূল্য প্রয়োজন হবে সে দর ঠিক করবে এই কমিটি। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ৪ হাজার ৫২৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। জেলা পরিষদের অধীনে ৫২৬টি ডাকবাংলো ও ১৬৩টি অডিটোরিয়াম হল রয়েছে। সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস, কমিউনিটি সেন্টার ও অডিটোরিয়াম হলও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকায় ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যাটারি ছাড়া স্থাপন করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে ব্যাটারি যুক্ত করতে আরও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটারি অথবা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতে সংযোগ চলে যাবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন, সেখানে আমি উৎপাদন করছি ৮ কিলোওয়াট। আমি যে ৩ কিলোওয়াট জাতীয় গ্রিডে দেবো, এটা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ আমাকে তিন মাস পরপর তাদের যে মূল্য নির্ধারণ থাকবে, সেই টাকাটি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেরত দেবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের নতুন পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমাতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। ঢাকার ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা এখনো আছে। রাজউক তো ডিজাইনগুলো অনুমোদন দেয়। এটা আমার মন্ত্রণালয়ের না। নিশ্চয়ই ওই মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং যেন আইনটি কার্যকর হয়, সে ব্যবস্থা তারা নেবেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, ওয়ালটন, প্রাণ আরএফএল ও গ্রামীণ শক্তিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে সরকারের কাছে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। তাদের সক্ষমতা নিয়ে সরকার প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে হেড অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হে
 

সম্পর্কিত খবর

স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বোমা হোসেন’ গ্রেপ্তার

মেহেরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বোমা হোসেন’ গ্রেপ্তার

সবুজায়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি ডিএনসিসি প্রশাসকের

সবুজায়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি ডিএনসিসি প্রশাসকের

জাহাজের রশি ছিঁড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলট আহত

জাহাজের রশি ছিঁড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলট আহত

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনকে নতুনভাবে সাজাতেই পরিবর্তন: মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনকে নতুনভাবে সাজাতেই পরিবর্তন: মন্ত্রী

শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় আহত আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় আহত আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম