ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে এগোচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
asif
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
ঢাকা প্রতিনিধি - বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নের উপযোগী করার কাজ করছে সরকার। প্রথম ১৮০ দিনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ মেরামতের কাজ চলছে। সামনের দিনগুলোতে সরকার আরও মসৃণভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস (১৮০ দিন) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৮২৫ দিনের ম্যান্ডেট পেয়েছি। তার মধ্যে মাত্র ১৮০ দিনের জন্য আজ জবাবদিহি করতে বসেছি। আমাদের সরকার জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চর্চা করবে এবং পর্যায়ক্রমে এভাবেই জনগণের সামনে হাজির হবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাম্প্রতিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অন্যায়, অত্যাচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কীভাবে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তা আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেখেছি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরলে আপামর জনতা তাকে বিপুল সংবর্ধনা ও ভালোবাসা জানায়। সেখানেই তিনি ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করেছিলেন-‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। মন্ত্রী আরও বলেন, তৃতীয় ঘটনাটি হলো ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেদিন আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া কোটি মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে বিদায় নেন। ৫ আগস্টের ক্ষোভ এবং ২৫ ও ৩১ ডিসেম্বরের এই গণসম্পৃক্ততাই আমাদের সামনে পুরোনো পরিস্থিতি থেকে নতুন পরিস্থিতিতে রূপান্তরের বার্তা হাজির করেছে। সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কী পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ থাকলে মানুষের এত ক্ষোভ থাকতে পারে যে ফ্যাসিবাদ পালাতে বাধ্য হয়? আমাদের এখনকার পুরো পরিকল্পনাটিই হলো এই ধ্বংসস্তূপকে পরিকল্পনামাফিক পুনর্গঠনের কাজে নিয়ে যাওয়া। আমরা এখন সেই পর্বটিই অতিক্রম করছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রÑ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে প্রথমে ততটুকু বিনির্মাণ করতে হচ্ছে, যতটুকু করলে আমাদের নেতার ঘোষিত প্ল্যানকে আমরা ‘কোর্স অব অ্যাকশন’-এ নিতে পারি। সে কারণেই প্রথম দিকের এই দিনগুলোকে আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়েও বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে ধ্বংসস্তূপকে নতুন কর্মসূচির উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত জিনিসকে কাজে লাগানোর আগে অনেক কাজ করতে হয়। আমরা আশা করি, মেয়াদের সামনের দিকে যত এগোব, তত স্মুথলি আমরা আমাদের নেতার প্ল্যান এবং নির্বাচনী ইশতেহার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও মুখপাত্র, প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা এবং এসএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তথ্যমন্ত্রীর প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
