সুস্থ থাকতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই এড়িয়ে চলুন এসব ভুলগুলো
asif
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ এএম
সকালের প্রথম কয়েকটি মিনিট পুরো দিনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই কী করছেন, তার সঙ্গে দিনের মেজাজ, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে। অথচ অনেকেই না বুঝেই এমন কিছু অভ্যাস করেন, যা শরীর ও মনকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেয় না। তাই সকালে ঘুম ভাঙার পর কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলা ভালো, তা জানা জরুরি।
ঘুম ভাঙতেই মোবাইল হাতে নেবেন না
চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল কিংবা নানা নোটিফিকেশন দেখা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু দিনের শুরুতেই একের পর এক তথ্য ও কাজের চাপের মুখোমুখি হলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নেতিবাচক খবর বা কর্মসংক্রান্ত বার্তা সকালের প্রশান্তি নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকুন। দিনের শুরুটা নিজের শরীর ও মনের জন্য রাখাই ভালো।
হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াবেন না
সারারাত একই ভঙ্গিতে বিশ্রাম নেওয়ার পর শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হতে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত উঠে দাঁড়ালে কারও কারও মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমে বিছানায় কিছুক্ষণ বসুন। হাত-পা আলতো করে নড়াচড়া করুন, শরীর সামান্য স্ট্রেচ করে তারপর ধীরে ধীরে দাঁড়ান। এতে শরীরকে ঘুমের অবস্থা থেকে জেগে ওঠার জন্য সময় দেওয়া হয়।
খালি পেটে চা-কফি দিয়ে দিন শুরু করবেন না
অনেকের কাছে সকালের চা বা কফি ছাড়া দিন শুরুই হয় না। তবে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করলে যাদের অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার প্রবণতা রয়েছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে। ক্যাফেইন কিছু মানুষের পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই প্রথমেই চা-কফির বদলে পানি পান করা এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নাশতার সঙ্গে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
ঘুম থেকে উঠে পানি না খেয়ে থাকবেন না
সারারাত খাবার ও পানীয় ছাড়া থাকার কারণে সকালে শরীরে কিছুটা পানিশূন্যতা থাকতে পারে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর পানি পান করা শরীরকে সতেজ করতে সাহায্য করে। একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রয়োজন নেই, স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। তবে সবার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান বাধ্যতামূলক নয়। শরীরের প্রয়োজন, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী পানির চাহিদা বদলায়।
ঘর অন্ধকার করে বসে না থাকা
ঘুম থেকে ওঠার পর জানালা খুলে দিনের আলো ঘরে ঢ়ুকতে দিন। সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলো মস্তিষ্ককে জেগে ওঠার সংকেত দিতে সাহায্য করে এবং দিনের শুরুতে সতেজ অনুভব করতে সহায়তা করতে পারে। তাই পর্দা সরিয়ে কিছুক্ষণ সকালের আলোতে থাকা এবং সম্ভব হলে বাইরে অল্প সময় হাঁটা ভালো অভ্যাস হতে পারে।
যেভাবে সকাল শুরু করবেন
ঘুম থেকে উঠে প্রথমে কিছুক্ষণ শান্তভাবে বসুন। এরপর পানি পান করে জানালা খুলে দিন। হালকা স্ট্রেচিং, ধীরগতির হাঁটা কিংবা কয়েক মিনিট গভীর শ^াস নেওয়ার মাধ্যমে শরীরকে সক্রিয় করতে পারেন। সকালে শরীর ও মনকে ধীরে ধীরে জেগে ওঠার সুযোগ দেওয়া। এতে সকালটা আরও স্বস্তিদায়ক ও গোছানোভাবে শুরু করা সম্ভব।
ছবি:০৩
সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা দূর করার ৩ ঘরোয়া পানীয়
এই সময় বাতাস ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এ সময়ে শরীরে অস্বস্তি বাড়তে পারে। অনেকেরই গলাব্যথা, সর্দি-কাশি, শরীর ম্যাজম্যাজ করা কিংবা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও বিশ্রামের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়। জ্বর বেশি হলে, শ^াসকষ্ট বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সকালে তুলসি-আমলকির পানীয়
দিনের শুরুতে হালকা ও সতেজ পানীয় হিসেবে তুলসি আমলকি ও আদার মিশ্রণ খেতে পারেন। আমলকিতে ভিটামিন সি রয়েছে। অন্যদিকে তুলসি ও আদা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঘরোয়া পানীয়তে ব্যবহার হয়ে আসছে। একটি ব্লেন্ডারে ৪ থেকে ৬টি তুলসীপাতা নিন। চাইলে কয়েকটি পুদিনাপাতাও যোগ করতে পারেন। এবার অর্ধেক আমলকি অথবা ১ চা চামচ লেবুর রস দিন। এর সঙ্গে এক টুকরো আদা বা সামান্য কাঁচা হলুদ যোগ করুন। সবশেষে এক চিমটি বিট লবণ ও দেড় কাপ পানি অথবা ডাবের পানি দিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর ছেঁকে পান করতে পারেন। সকালে খালি পেটে পান করার কথা বলা হলেও যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার সমস্যা রয়েছে, তারা খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর পান করতে পারেন।
সন্ধ্যায় হলুদ-দুধ
সন্ধ্যায় গরম দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন আরেকটি উষ্ণ পানীয়। গরম তরল গলার অস্বস্তিতে আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ যোগ করলে স্বাদেও ভিন্নতা আসে। এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য কাঁচা হলুদ গ্রেট করে মিশিয়ে নিন। এরপর এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়া ও এক চিমটি গোলমরিচ যোগ করুন। ভালোভাবে নেড়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। তবে দুধে অ্যালার্জি বা দুধ হজমে সমস্যা থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
হলুদের উষ্ণ পানীয়
গলা খুসখুস বা অস্বস্তি হলে উষ্ণ আদা-হলুদের পানীয় চুমুক দিয়ে খেতে পারেন। এটি দিনে ২ থেকে ৩ বার পান করার জন্য আগে থেকেই তৈরি করে রাখা যায়। ব্লেন্ডারে আদা, কাঁচা হলুদ ও সামান্য গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে বেটে নিন। তৈরি হওয়া মিশ্রণটি একটি বরফের ট্রেতে ঢেলে ফ্রিজারে রেখে দিন। জমে গেলে ছোট ছোট কিউব তৈরি হবে। গলায় অস্বস্তি হলে একটি কিউব কাপে নিয়ে তার ওপর গরম পানি ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কুসুম গরম অবস্থায় ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন।
শুধু পানীয় নয়, বিশ্রামও জরুরি
সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার সময়ে শুধু কোনো বিশেষ পানীয় খেলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার, ভালো ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ তরল পান করলে গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম মিলতে পারে।
তবে জ্বর কয়েকদিন ধরে থাকলে, জ্বরের মাত্রা বেশি হলে, গিলতে খুব কষ্ট হলে, শ^াসকষ্ট দেখা দিলে বা দুর্বলতা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
