জ্বালানি সংকট ও সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়ন করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ
asif
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখন জনজীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতা। শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাসাবাড়িতে লোডশেডিং বেড়েছে, আর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্যাসের ঘাটতি কাটছে না, ফলে অর্থনীতি ও সামাজিক জীবন উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আশার আলো দেখাচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বড় আকারের গ্রাউন্ড-মাউন্টেড প্রকল্পের পাশাপাশি রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ভবন ও অবকাঠামোর অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সহজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা নিজেদের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনা থাকলেই সংকট কাটবে না। বাস্তবায়ন কাঠামো সুস্পষ্ট না হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে পিছিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সৌরবিদ্যুৎ খাতে সফল হতে হলে নীতি সহায়ক পরিবেশ, বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য। বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ভা-ার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধবিগ্রহ চলছে, আর পরিবেশ বিপর্যয় বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুৎ শুধু বিকল্প নয়, বরং ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান। আমরা মনে করি, সরকারের উদ্যোগকে কার্যকর করতে হলে এখনই বাস্তবায়ন কাঠামো সুস্পষ্ট করতে হবে। নেট মিটারিং সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষও উৎপাদনে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহ এবং আমদানি শুল্ক হ্রাস জরুরি। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎই হতে পারে টেকসই সমাধান। তবে সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
