গণপরিবহনে নৈরাজ্য যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন
asif
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ এএম
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সমস্যায় ভুগছে। প্রতিদিন লাখো মানুষ বাসে যাতায়াত করলেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো, নিরাপদ ভ্রমণ এবং মানসম্মত সেবা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বাসের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, সড়কে প্রতিযোগিতা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি দিনে দিনে বেড়েই চলছে। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হলো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অভাব। একই সড়কে একাধিক বাস কোম্পানির অসুস্থ প্রতিযোগিতা, নির্দিষ্ট স্টপেজ না মানা, চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপের চাপ এবং যাত্রী সংগ্রহের জন্য রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে রাখার প্রবণতা সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস রুট রেশনালাইজেশন, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা এবং ই-টিকিটিং চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল ও ডিপো শহরের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অতীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভাবে কাক্সিক্ষত ফল দেয়নি। তাই এবার পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থাকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে হলে প্রথমে বাস পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করা, নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা, চালকদের নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা এবং সড়কে অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ এবং পথচারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গণপরিবহন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি একটি শহরের অর্থনৈতিক গতি ও মানুষের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানীর মানুষের সময়, শ্রম ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সাময়িক অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনাই পারে ঢাকার গণপরিবহনকে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থায় পরিণত করতে।
