গণপরিবহণের মধ্যে রেলকে ধরা হয় সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে। দূরপথে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের প্রধান ভরসা রেল। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, দেশের রেলপথ নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে শিডিউল বিপর্যয়, ধীরগতি, যাত্রীসেবার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতা রেলকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। শিডিউল মেনে ট্রেন চালানোর ইতিহাস এখন অতীত। ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেন আজ ৬৫ কিলোমিটারের বেশি গতি তুলতে পারছে না। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে যেখানে সময় লাগার কথা কয়েক ঘণ্টা, সেখানে লাগছে প্রায় ৯ ঘণ্টা। ট্রেন ছাড়ার সময়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই, যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন রেলের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ রেলপথ সংস্কার, ইঞ্জিন ও কোচ উন্নয়নে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে? লেভেল ক্রসিং সংস্কার কিংবা অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করার মতো মৌলিক কাজও সম্পন্ন হচ্ছে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সেবার মান— এই তিনটি মৌলিক দায়িত্বে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ। ফলে অনেকেই মনে করেন, সরকারি মালিকানায় থেকে যদি রেল প্রত্যাশিত সেবা দিতে না পারে, তবে এটিকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত। আমরা মনে করি, রেলকে মানবসেবার উপযোগী পরিবহণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজন শিডিউল সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রেলকে বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে কি না, তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত। কিন্তু বর্তমানেই জরুরি হলো রেলকে একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহণে পরিণত করা। অন্যথায় রেল থেকে মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহণ মাধ্যম হারাবে তার অস্তিত্ব। রেলসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মানে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক গতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
