মাদকের থাবায় বিপন্ন সমাজ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পুনর্বাসন জরুরি
asif
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
দেশে মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এর ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এসেছে। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও আইসের মতো মাদকের পাশাপাশি নতুন ধরনের মাদকও দেশে প্রবেশ করছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক জব্দের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, মাদকের সরবরাহব্যবস্থা এখনো একই ভাবে সক্রিয় রয়েছে। ইদানীং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে মাদক বিক্রির বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। এতে করে বলা যায়, মাদক কারবারিরা প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তিকেও নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে। মাদকের বিস্তার শুধু একজন ব্যক্তিকে আসক্ত করছে না; এর প্রভাব পরিবার ও সমাজজীবনেও ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন, চুরি-ছিনতাই এবং সহিংসতার মতো অপরাধ বাড়ছে। মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় সংকট। মাদক প্রতিরোধে অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ছোট কারবারিদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের লেনদেন এবং বড় কারবারিদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রির বিজ্ঞাপন ও যোগাযোগ শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে শাস্তি দিলেই হবে না, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং সরবরাহ বন্ধ, কঠোর আইন প্রয়োগ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন-এই চারটি দিক একসঙ্গে গুরুত্ব পেলেই মাদকের থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।
