খারাপ হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
asif
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার জনেরও বেশি, আর মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমী রোগ নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন ও অপরিকল্পিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কারণে এটি সারা বছরব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্পষ্ট। নির্মাণস্থল, ছাদে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আক্রান্তদের বড় অংশই ঢাকা শহরের বাসিন্দা। তবে ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ ডেঙ্গু এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে। আমরা মনে করি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং বা অস্থায়ী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রিয়েল-টাইম নজরদারি, লার্ভা ধ্বংসে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ এবং জনসম্পৃক্ততা। প্রতিটি পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিতভাবে নির্মাণস্থল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত স্যালাইন, কিট ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু কর্নার চালু করে রোগীদের দ্রুত সেবা দিতে হবে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি করারও খুব জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা অগ্রাহ্য করলে সংকট আরও বাড়বে। তাই এখনই সময় বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি রণনীতি গ্রহণের। ডেঙ্গু সংকট শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্নও। প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
