সূরা নমল
পারা ১৯-২০, আয়াত ৯৩, রুকু ৭ (মাক্কী)
৬০. (হে নবী! ওদের জিজ্ঞেস করো) মহাকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? আকাশ থেকে কে তোমাদের জন্যে পানিবর্ষণ করেন? আর এই পানি দিয়েই আমি শ্যামল দৃষ্টিনন্দন বাগান সাজাই। (অথচ) একটি বীজের অঙ্কুরোদ্গম করার ক্ষমতাও তোমাদের নেই। অতএব আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য (এ-কাজে শরিক) থাকতে পারে কি? (না, কখনো নয়) তারপরও বাস্তবে এমন লোক আছে, যারা সত্যপথ থেকে দূরে সরে যায়।
৬১. (ওদের জিজ্ঞেস করো) কে পৃথিবীকে মানুষের বাসোপযোগী করেছেন? কে জমিনের বুকে নদনদী প্রবহমান করেছেন, সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন? কে দুই প্রবহমান ¯্রােতধারার মধ্যে অদৃশ্য অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? অতএব আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য (এ-কাজে শরিক) থাকতে পারে কি? (না, কখনো নয়।) তবুও অনেকে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ থেকেও বিরত থাকে।
৬২. (হে নবী! ওদের জিজ্ঞেস করো) অসহায় ও বিপন্নের প্রার্থনায় কে সাড়া দেন? কে বিপদ মোচন করেন, দু:খকষ্ট দূর করেন? আর দুনিয়ায় কে তোমাদের খলিফা নিযুক্ত করেছেন? আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য (এ-কাজে শরিক) থাকতে পারে কি? (না, কখনো নয়।) অথচ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই কোনো চিন্তাভাবনা করে না।
সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কিত হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২০১
সাহ্ল ইব্নু সা‘দ (রা:) হতে বর্ণিত-
নবী (ﷺ) বনী আমর ইবন আউফের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন, ইতোমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হল। তখন বিলাল (রা:) আবু বকর (রা:)-এর নিকট এসে বললেন, নবী (ﷺ) কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আপনি লোকদের সালাতে ইমামতি করবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তোমরা চাও।
তখন বিলাল (রা:) সালাতের ইকামত বললেন, আবু বকর (রা:) সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। ইতোমধ্যে নবী (ﷺ) আসলেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লিগণ ‘তাসফীহ’ করতে লাগলেন। সাহল (রা:) বললেন, তাসফীহ কী তা তোমরা জান? তা হল ‘তাসফীক’ (তালি বাজানো)।
আবু বকর (রা:) সালাতে এদিক সেদিক লক্ষ্য করতেন না। মুসল্লিগণ অধিক তালি বাজালে তিনি সে দিকে লক্ষ্য করলে নবী (ﷺ)-কে কাতারে দেখতে পেলেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে ইঙ্গিত করলেন- যথাস্থানে থাক। আবু বকর (রা:) তখন দুই হাত তুলে আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন এবং পিছু হেঁটে চলে এলেন। নবী (ﷺ) সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত আদায় করলেন।
