ফোন চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
asif
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে শুধু দামি ডিভাইসটিই নয়, তার মধ্যে থাকা ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত নথি, মেসেজ এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকে প্রয়োজনীয় কিছু সেটিংস চালু রাখা থাকলে হারানো ফোনের অবস্থান খোঁজার পাশাপাশি সেটিকে দূর থেকে লক করা বা প্রয়োজন হলে সব তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে।
গুগল ফাইন্ড হাব দিয়ে ফোন খুঁজুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোন হারিয়ে গেলে অন্য কোনো ফোন বা কম্পিউটার থেকে গুগলের ফাইন্ড হাব পরিষেবা ব্যবহার করা যায়। এজন্য ব্রাউজারে ধহফৎড়রফ.পড়স/ভরহফ খুলে হারানো ফোনে ব্যবহৃত গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করতে হবে। সাইন ইন করার পর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ডিভাইসগুলোর তালিকা থেকে হারানো ফোনটি বেছে নিন। ফোনটি অনলাইনে থাকলে মানচিত্রে তার অবস্থান দেখতে পারবেন। ফোনটি আশপাশে রয়েছে বলে মনে হলে ‘প্লে সাউন্ড’ অপশনটিও কাজে লাগতে পারে। ফোন সাইলেন্ট বা ভাইব্রেশন মোডে থাকলেও এই অপশনের মাধ্যমে জোরে শব্দ বাজানো যায়। ফলে বাড়ি, অফিস বা অন্য কোনো পরিচিত জায়গায় ফোন হারিয়ে গেলে সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।
ফোন খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আগে লক করুন
ফোনের অবস্থান জানা গেলেও যদি সেটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন সরাসরি সব ডেটা মুছে ফেলার প্রয়োজন নেই। ফাইন্ড হাবের ‘মার্ক অ্যাজ লস্ট’ বা ‘সিকিউর ডিভাইস’ অপশন ব্যবহার করে ফোনটি লক করে দিতে পারেন। এর ফলে অন্য কেউ ফোনটি হাতে পেলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সহজে দেখার সুযোগ পাবে না। প্রয়োজন হলে যোগাযোগের জন্য স্ক্রিনে একটি বার্তা বা ফোন নম্বর দেখানোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
চুরি হলে কখন ডাটা মুছবেন?
যদি নিশ্চিত হন যে ফোনটি আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, বিশেষ করে ফোনটি চুরি হয়ে গেলে, তখন ‘ইরেজ ডিভাইস’ অপশন বিবেচনা করা যায়। এই অপশনের মাধ্যমে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ডাটা মুছে ফেলার ব্যবস্থা করা যায়।তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভাবুন। কারণ ডিভাইসটি একবার ইরেজ করে দিলে পরে ফাইন্ড হাবের মাধ্যমে সেটির অবস্থান ট্র্যাক করার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ, ফোন খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা এবং ডাটা সুরক্ষিত করার মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, তা পরিস্থিতি বুঝে ঠিক করতে হবে।
ফোন হারানোর আগেই যে বিষয়গুলো চালু রাখবেন
ফাইন্ড হাব দিয়ে হারানো ফোন খোঁজা বা দূর থেকে লক করার সুবিধা পেতে ফোনে আগে থেকেই কয়েকটি বিষয় সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। ফোনে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করা থাকতে হবে। পাশাপাশি লোকেশন এবং ফাইন্ড হাব পরিষেবা চালু রাখা দরকার। ফোনটি চালু থাকলে এবং মোবাইল ডাটা বা ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হয়। ডিভাইসটি গুগল প্লেতে দৃশ্যমান থাকাও প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফোন অফলাইনে থাকলেও ফাইন্ড হাব নেটওয়ার্কের সাহায্যে সেটির সাম্প্রতিক অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ থাকতে পারে। এজন্য ফোনে পিন, প্যাটার্ন বা পাসওয়ার্ডের মতো শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডাটা মুছে ফেলার আগে এই বিষয়টি মনে রাখুন
ফোন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে ‘ইরেজ ডিভাইস’ বেছে নেওয়া উচিত নয়। প্রথমে ফোনের অবস্থান দেখুন এবং সেটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না বিবেচনা করুন। কাছে থাকার সম্ভাবনা থাকলে ‘প্লে সাউন্ড’, আর ফোন অন্য কারো হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ‘সিকিউর ডিভাইস’ ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, ফোনটি চুরি হয়েছে এবং ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলে মনে হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডাটা মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তবে ফোনের এসডি কার্ডে থাকা তথ্য সবসময় এই প্রক্রিয়ায় মুছে নাও যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুরক্ষিত রাখতে আগে থেকেই নিয়মিত ব্যাকআপ রাখাও জরুরি।
