সৌদিতে হুথিদের হামলার দাবিতে ফের বাড়ল তেলের দাম
asif
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
বিদেশ প্রতিনিধি-: ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার হুথিদের পরিচালিত ইয়েমেন নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং লোহিত সাগরের তীরের শহর ইয়ানবুতে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনাকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। হামলার খবরের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দিন শেষ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর আগে দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তবে, গতকাল শুক্রবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল ১০৫ দশমিক ৭৭ ডলার। হুথিরা দাবি করেছে, তাদের চালানো দুটি হামলাই ‘সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে’। তবে, এসব হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে জোটটি। অন্যদিকে, বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকো। হামলার বিষয়ে নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে। সাত মাস ধরে চলা এ সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতার স্মারকে ওয়াশিংটন আবার ফিরে আসুক, সেটিই তিনি আশা করেন। নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের তুলনায় তেলের বর্তমান দাম এখনো বেশি। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ ও স্থাপনাগুলো এখনো ঝুঁকির মধ্যে থাকায় এর প্রভাব তেলের বাজারেও পড়ছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে, সিঙ্গাপুরের স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। যুদ্ধের অবসানের স্পষ্ট কোনো সমাধান না থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুতের ঘাটতি আরও বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
