‘অ্যাভেঞ্জার্স’ যেন এবার বাস্তব! ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নামছে ‘রোবট বাহিনী’
asif
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
বিদেশ প্রতিনিধি-: ২০১৫ সালের সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স : এজ অব আলট্রন’-এ যুদ্ধের জন্য রোবট বাহিনী দেখানো হয়েছিল। এক দশকের বেশি সময় পর ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ শনিবার জানিয়েছেন, দেশটি নতুন একটি ‘রোবট বাহিনী’ গড়ে তুলতে যাচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানি কমাতে বেশি রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কয়েক মাস পর তিনি এই উদ্যোগের কথা জানালেন। ফেদোরভের মতে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ‘রোবট বাহিনী’ গড়ে তোলা হচ্ছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, ২০২২ সালে শুরু করা তাঁর ‘আর্মি অব ড্রোনস’ প্রকল্পের মতো এবার ‘আর্মি অব রোবটস’ গড়ে তোলা হবে। ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের পরবর্তী প্রযুক্তিগত লক্ষ্য হলো যুদ্ধে রোবটের ব্যবহার বাড়ানো।’ তিনি জানান, ‘আর্মি অব রোবটস’ কোনো একটি প্রতিষ্ঠান হবে না। এটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের একটি বড় ব্যবস্থা হবে। ফেদোরভ বলেন, সরকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করবে এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরি করবে। এসব প্রযুক্তি সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে। যেসব প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হবে, সেগুলোর ব্যবহার আরো বাড়ানো হবে।ফেদ্রোভের শেয়ার করা ‘আর্মি অব রোবটস’ ওয়েবসাইটে এই উদ্যোগে কাজ করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, রাশিয়া দ্রুত নতুন প্রযুক্তি নকল করে তা উৎপাদনে নিয়ে আসছে। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে আরও বেশি সেনা পাঠানোর বদলে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন রোবট তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলো যুদ্ধ, নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও রসদ সরবরাহে কাজ করতে পারবে। ইউক্রেনের সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ফেদ্রোভ তার পোস্টের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন।
রোবট বাহিনী যেসব কাজ করবে
ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদ্রোভ বলেছেন, রোবট বাহিনী তৈরির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের প্রাণহানি কমানো। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে রোবট ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আহতদের উদ্ধার, গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া, মাইন পাতা ও সরানো, শত্রুর অবস্থান নজরদারি এবং সামরিক অবস্থানে হামলা চালানো। ফেদ্রোভের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের রোবটকে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, রোবটগুলো শত্রুর অবস্থানে হামলা চালাবে এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানুষ দূর থেকে রোবটগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। এলাকা নিরাপদ হওয়ার পর সেনারা সেখানে প্রবেশ করবে। ফেদ্রোভ আরো জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট দিয়ে শত্রু সেনার ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। এক বছরের মধ্যে কোনো পদাতিক সেনা ছাড়াই শত্রুর অবস্থানে হামলা চালানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
ইউক্রেনে ইউজিভির ব্যবহার বাড়ছে
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন চালকবিহীন স্থলযান বা ইউজিভির ব্যবহার ক্রমেই বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউজিভি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত মিশনের সংখ্যা ৩ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ইউজিভির মাধ্যমে সম্মুখ সমরে ২৫ হাজারের বেশি রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউজিভির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ‘হায়েনা’ নামে পরিচিত চার চাকার চালকবিহীন যানসহ বিভিন্ন ধরনের রোবট তৈরি করছে। এসব রোবট বিস্ফোরক বহন করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা অবস্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এগুলো শত্রুপক্ষের বাঙ্কারে হামলা অথবা তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, একই ধরনের একটি রোবট রুশ যুদ্ধবন্দীদের আটক করার কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে।
