পরিবার পরিকল্পনায় স্থবিরতা সেবাব্যবস্থা দ্রুত পুনর্গঠন জরুরি
asif
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
জনসংখ্যাগত ভারসাম্য কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি পরিবারে কখন সন্তান আসবে, সন্তানসংখ্যা কত হবে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিক্ষা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য নিরসনের প্রশ্নও জড়িত। অথচ বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের দুর্বলতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বহু মানুষ প্রয়োজনের সময় নির্ভরযোগ্য পরামর্শ ও সামগ্রী পাচ্ছেন না। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নারীদের। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৫৩ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন এবং এর প্রায় অর্ধেকই অনিচ্ছাকৃত। পরিস্থিতির গুরুতর দিক হলো, গর্ভপাতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছেন। এতে তাৎক্ষণিক শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা এবং প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়। একটি কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা থাকলে এর বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। সংকটের মূলে শুধু সামগ্রীর স্বল্পতা নেই, রয়েছে বিতরণব্যবস্থার চরম দুর্বলতা। কোনো কোনো উপজেলায় সরকারি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মজুত পড়ে আছে। এই বৈপরীত্য প্রমাণ করে, চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ, সংরক্ষণ ও পুনর্বণ্টনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। বাজারে নি¤œমানের সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ এবং কিছু পণ্যের উচ্চমূল্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। ফলে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সরকার এক বছরের জন্য ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে তরুণ, নবদম্পতি, পুরুষ, প্রসূতি মা, বস্তিবাসী ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা ইতিবাচক। তবে কর্মসূচির সংখ্যা কিংবা বরাদ্দের আকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের দোরগোড়ায় নিয়মিত সেবা পৌঁছানো। মাঠকর্মীর শূন্যতা পূরণ, বাড়িভিত্তিক পরামর্শ পুনরুজ্জীবিত করা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মজুতব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পরিবার পরিকল্পনা কোনো সাময়িক প্রচারাভিযান নয়। এটি নারীস্বাস্থ্য, শিশুর নিরাপদ বিকাশ এবং পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত ধারাবাহিক জনসেবা। তাই সরবরাহব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, মাঠপর্যায়ে দক্ষ লোকবল, মানসম্মত সামগ্রী এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, পরিবারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নারীর মতামত ও মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণমুখী হয়ে উঠবে।
