Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আগামীর জন্য অশনিসংকেত

asif

asif

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আগামীর জন্য অশনিসংকেত

কোনো সমাজের ভবিষ্যৎ বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো তার শিশু ও কিশোরদের দিকে তাকানো। যে বয়সে একজন কিশোরের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি কিংবা স্বপ্ন গড়ার কাজে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই যদি সে অস্ত্র হাতে নেয়, মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে বা সংঘবদ্ধ অপরাধের সদস্য হয়ে ওঠে, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং সমাজের গভীর অসুস্থতার লক্ষণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা সেই বিপজ্জনক বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিশোর গ্যাং একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকে সংগঠিত সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, এমনকি হত্যাকা-ের ঘটনাতেও কিশোরদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। কিশোর অপরাধের পেছনে কোনো একক কারণ নেই। পরিবারে অস্থিরতা, অভিভাবকদের অনুপস্থিতি, শিক্ষাজীবনে বিচ্ছিন্নতা, মাদকের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব ও হতাশা মিলেই অনেক কিশোরকে অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীরা নিজেদের আড়ালে রেখে কিশোরদের ব্যবহার করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠপর্যায়ে কিছু কিশোরকে গ্রেপ্তার করলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা মনে করি, কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় প্রথমেই পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র ও স্থানীয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বিস্তার, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা এবং তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা জরুরি। পরিবারের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখছে এবং তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক নজর রাখতে হবে। শিশু-কিশোররা যদি অপরাধচক্রের হাতে চলে যায়, তাহলে ক্ষতিটা শুধুই বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতেরও। তাই কিশোর গ্যাংকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার ইস্যু হিসেবে না দেখে জাতীয় সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে আজকের কিশোর অপরাধ আগামী দিনের আরও বড় নিরাপত্তা হুমকিতে রূপ নিতে পারে।
 

সম্পর্কিত খবর

পরিবার পরিকল্পনায় স্থবিরতা সেবাব্যবস্থা দ্রুত পুনর্গঠন জরুরি

পরিবার পরিকল্পনায় স্থবিরতা সেবাব্যবস্থা দ্রুত পুনর্গঠন জরুরি

নদী-খাল রক্ষা সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি

নদী-খাল রক্ষা সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি

কমছে কৃষিজমির পরিমাণ খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর হতে হবে

কমছে কৃষিজমির পরিমাণ খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর হতে হবে

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু  স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা জরুরি

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা জরুরি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

সামাজিক অবক্ষয় সহিংসতা কি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে?

সামাজিক অবক্ষয় সহিংসতা কি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে?

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম