Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

সংকটময় অর্থনীতি ঋণনির্ভরতা আর কত দিন?

asif

asif

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

সংকটময় অর্থনীতি ঋণনির্ভরতা আর কত দিন?

একটি দেশের অর্থনীতি তখনই সুস্থ বলে বিবেচিত হয়, যখন তার উন্নয়নের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর। কিন্তু যখন সরকারি ব্যয় মেটাতে ধারাবাহিকভাবে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, তখন তা অর্থনীতির ভেতরে জমতে থাকা গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিও তেমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যয়ের চাপ সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণই হয়ে উঠছে ঘাটতি পূরণের প্রধান ভরসা। ঋণ নিজে কোনো সমস্যা নয়, যদি তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি করে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন ঋণের অর্থ অপচয়, অদক্ষতা কিংবা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয়। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্বল তদারকির কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ প্রত্যাশিত সুফল দেয়নি। এর ফল আজও অর্থনীতিকে বহন করতে হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজস্ব সংগ্রহ কাক্সিক্ষত হারে না বাড়লেও ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের দায় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত বরাদ্দ সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রথমেই রাজস্ব ব্যবস্থাকে অধিকতর দক্ষ ও আধুনিক করতে হবে। করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আওতা বাড়াতে হবে, কর প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং বকেয়া আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ প্রয়োজন। যেসব প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে না, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো বেসরকারি খাত। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি। জ্বালানি নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও শক্তিশালী হবে। আমরা মনে করি, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ঋণনির্ভর সমাধানের চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার বেশি প্রয়োজন। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। তাই এখনই বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, রাজস্ব সংস্কার এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণের ওপর নয়, টেকসই উন্নয়নের পথ শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপরই নির্মিত হয়।
 

সম্পর্কিত খবর

বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেশে প্রতারণার ফাঁদ

বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেশে প্রতারণার ফাঁদ

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার কঠোর হাতে দমন করুন

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার কঠোর হাতে দমন করুন

নকল দুধের কারবার ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জরুরি

নকল দুধের কারবার ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জরুরি

২২ ব্যাংক লোকসানে: সংকটের দায় নেবে কে?

২২ ব্যাংক লোকসানে: সংকটের দায় নেবে কে?

এলপিজি সংকট বাজারে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে?

এলপিজি সংকট বাজারে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে?

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আগামীর জন্য অশনিসংকেত

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আগামীর জন্য অশনিসংকেত

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম