Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

এলপিজির সংকট বিপিসির মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ জরুরি

asif

asif

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পিএম

এলপিজির সংকট বিপিসির মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ জরুরি

বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এলপিজি বাজারে একটা সংকট এবং অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি নিয়ে যে অস্থিরতা দেখা গেছে সেটি সরকারিভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বাজারে তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মূল্য সমন্বয়ের পরও সরবরাহসংকট কাটেনি; বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। এর বড় অংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকায় বহু পরিবার এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। তাই এ জ্বালানির সংকট কেবল ব্যবসায়িক সমস্যা নয়; এটি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও পারিবারিক ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের তুলনায় ৬০০ টাকারও বেশি ব্যয় করতে হলে সীমিত আয়ের পরিবারকে অন্য প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হয়। এলপিজির বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি, মজুত ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার করা জরুরি। আমদানিকারকদের সংগঠনের দাবি, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আমদানি স্বাভাবিক ছিল। অন্যদিকে পরিবেশকদের অভিযোগ, অল্প কয়েকটি কোম্পানি নিয়মিত সরবরাহ করলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমদানি স্বাভাবিক থাকার দাবি সত্য হলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কেন, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আমদানি থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার পর্যায় পর্যন্ত কোথায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠান কতটা গ্যাস বাজারে ছাড়ছে এবং মজুতের পরিমাণ কতÑএসব তথ্য প্রকাশ করা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট, পরিবহন সমস্যা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন উৎসের সন্ধান করছে বাংলাদেশ। আলজেরিয়া এই ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প উৎস হিসেবে সামনে এসেছে। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উচিত আমদানি, মজুত, পাইকারি বিক্রি ও খুচরা সরবরাহের তথ্য মিলিয়ে সংকটের উৎস শনাক্ত করা। পরিবহন বা বিতরণব্যবস্থায় সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সরবরাহ সীমিত রেখে বাড়তি দাম আদায়ের সুযোগ নিচ্ছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। 
 

সম্পর্কিত খবর

অস্থায়ী বাস টার্মিনাল উদ্বোধন রাজধানীর যানজট কমবে কি?

অস্থায়ী বাস টার্মিনাল উদ্বোধন রাজধানীর যানজট কমবে কি?

সংকটময় অর্থনীতি ঋণনির্ভরতা আর কত দিন?

সংকটময় অর্থনীতি ঋণনির্ভরতা আর কত দিন?

বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেশে প্রতারণার ফাঁদ

বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেশে প্রতারণার ফাঁদ

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার কঠোর হাতে দমন করুন

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার কঠোর হাতে দমন করুন

নকল দুধের কারবার ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জরুরি

নকল দুধের কারবার ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জরুরি

২২ ব্যাংক লোকসানে: সংকটের দায় নেবে কে?

২২ ব্যাংক লোকসানে: সংকটের দায় নেবে কে?

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম