Logo
Logo
×

জাতীয়

কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, জামাতা আটক

asif

asif

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, জামাতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক - রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হৃদয় ওরফে শিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আল আমিন মসজিদ রোডের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হৃদয়ের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রি (২০) ও তাঁর মা ফিরোজা বেগম (৩৮)। ঘটনার পর হৃদয়কে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে হৃদয় প্রথমে স্ত্রী ফারজানাকে এবং পরে শাশুড়ি ফিরোজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে ফারজানা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর হৃদয় ওরফে শিপনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকা-ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার হৃদয় ও ফারজানা মোহাম্মদপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রাতে তাঁরা কাঁঠালবাগানের শ^শুরবাড়িতে যান। পরদিন সকালে আগের বিরোধের জের ধরে তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে তিনি খবর পান, বাসায় তাঁর মেয়ে ও জামাতার মধ্যে ঝগড়া চলছে। বাসায় গিয়ে তিনি মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে এবং স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ফারুক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে হৃদয় ও ফারজানার মধ্যে বাগবিত-া হয়। শনিবার রাতে তাঁরা ঢাকায় ফেরেন। পরদিন সকালে সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর হৃদয় তাঁদের এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, হৃদয় ও ফারজানার বাড়ি শরীয়তপুরে। হৃদয় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন এবং পিকআপ ভ্যান চালাতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ফিরোজা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফারজানার মরদেহও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হৃদয় ওরফে শিপনকে আটক করেছে। কী কারণে পারিবারিক বিরোধ এমন সহিংসতায় রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখছে কলাবাগান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 
 

সম্পর্কিত খবর

লাভজনক হলেও তলানিতে নামিয়ে আনা হয়েছে রেলে পণ্য পরিবহণ

লাভজনক হলেও তলানিতে নামিয়ে আনা হয়েছে রেলে পণ্য পরিবহণ

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সিঁড়ি বেয়ে ওঠানো ও পেছনে হাতকড়া নিয়ে বিচারকের কাছে পলকের ক্ষোভ

সিঁড়ি বেয়ে ওঠানো ও পেছনে হাতকড়া নিয়ে বিচারকের কাছে পলকের ক্ষোভ

সারে বাড়ছে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ

সারে বাড়ছে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম