Logo
Logo
×

সারাদেশ

বগুড়ার শেরপুরে বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা

asif

asif

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

বগুড়ার শেরপুরে বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা

বগুড়া প্রতিনিধি - ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা। প্রথম শ্রেণির তকমা মিললেও, দীর্ঘ দেড় দশকেও গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র বা ডাম্পিং স্টেশন। ফলে বাধ্য হয়েই ঐতিহাসিক করতোয়া নদী ও পৌর কার্যালয়ের ঠিক পেছনে ফেলা হচ্ছে শহরের শত শত টন বর্জ্য। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি, ছড়াচ্ছে রোগব্যাধি। নদীর নাম করতোয়া। এক সময়ের প্রমত্তা এই নদী এখন রূপ নিয়েছে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে। প্রথম শ্রেণির শেরপুর পৌরসভা থেকে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য সংগৃহীত হলেও, নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়েই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তা ফেলছেন এই নদীর তীর এবং পৌর ভবনের পেছনের খোলা জায়গায়। দীর্ঘদিনের এই বর্জ্য জমে চারপাশের বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। বেড়েছে মাছি ও বিষাক্ত মশার উপদ্রব। খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার কারণে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভা তথ্য থেকে জানা যায়, পৌরসভার বর্জ্য ফেলার জন্য ২.৫ একর জায়গা রয়েছে শেরুয়া বটতলা এলাকায় কিন্ত এখানে আবাসিক এলাকা হওয়ায় ময়লা ফেলা যাচ্ছে না। ময়লা অপসারণের জন্য জনবলের কোন ঘাটতি নেই। শহর পরিচ্ছন্নতার ৪ জন ড্রাইভার ও ৩৫ জন লেবার প্রতিদিন কাজ করেন। এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, তীব্র গন্ধে বাড়িতে থাকা তাদের জন্য অসহ্য হয়ে পরেছে। রাতে ঘুমানোর সময় ধুপকাঠি জালিয়ে রাখতে হয়। ময়লা অপসারণ করে অন্য জায়গায় স্থানান্তারিত হলে আমরা স্বস্তি পাবো। আরেক বাসিন্দা বলেন, যখনি খেতে বসি ধুপ কাঠি জ্বালিয়ে খাবার খেতে হয়। গন্ধে ভাত খাওয়া যায় না। সবার কাছে অনুরোধ তারা যেন ময়লার ভাগারতি জনবহুল জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যান। এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, আসলে পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই তবে বটতলায় যে জায়াগটি আছে সেখানেও ময়লা ফেলা যায় না সে জন্য শহরের পাশে ভস্তার বিল এলাকায় একটা ব্যাবস্তা করেছিলাম এবং সে বিষয়ে একটা প্রস্তাবনাও ছিল। আমি থাকলে কাজটি সম্পূর্ণ হতো । আমি আশাকরি যিনি পৌর প্রশাসক যিনি আছেন তিনি তার দায়িত্ত পালন করবেন । মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে জায়গা ক্রয় করা যাবে। এটা ক্রয় করা হলে পৌরসভার এই দূরগন্ধের দুর্ভোগ দূর হবে মানুষ রেহাই পাবে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ময়লার ভাগারটি শেরুয়া বটতলায় ছিল, সেখানে ২.৫ একর নিজস্ব জায়গা আছে , আবাসিক এলাকা হওয়ায় ময়লা ফেলা যাচ্ছে না । এ ছারা কোন নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বর্জ্য গুলো পৌরসভার পিছনে নির্দিষ্ট জায়গায় তা ফেলা হচ্ছে। যার ফলে দুর্গন্ধগুলো পৌরসভাসহ আশপাশের বসতিতে ছরিয়ে পরছে। ইতিমধ্য আমরা শেরুয়া বটতলার জায়গাটি বিক্রির জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং হোসনাবাদ মৌজায় ৭ একর জায়গা দেখেছি জায়গাটি সরকারের মাধ্যমে ক্রয়ের চিন্তা ভাবনা করছি। সে ব্যাপারে প্রশাসনিক অবমুক্তির জন্য মিনিস্ট্রি চিঠি দেওয়া হয়েছে আশাকরি আমরা তা পাবো। তা পেলে বাস্তবায়ন করতে পারবো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, প্রস্তাব পূর্বাতন মেয়র আমলে পাঠানো হয়েছিল একটা স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশনের স্থানের জন্য। মিনিস্ট্রির কিছু নিয়ম আছে তারা দেখে পৌরসভাটি সচ্ছল কিনা ও বেতন ভাতাদি পরিশোধ কিনা। পূর্বের কিছু বেতনে কিছু সমস্য রয়েছে সে কারনে প্রস্তাব নাকচ করা হয়। বর্তমানে আমরা ও মাননীয় সংসদ সদস্য নিজে চেস্টা করছেন যেন সেই নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে পৌরসভার জন্য স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন স্থানের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন আনা যায় সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি। 
 

সম্পর্কিত খবর

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: বুলু

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: বুলু

বিদেশে চাকরির কথা বলে প্রতারণা: ১২ জনের কারাদ--জরিমানা

বিদেশে চাকরির কথা বলে প্রতারণা: ১২ জনের কারাদ--জরিমানা

ছুটি ছাড়াই টানা তিন দিন অফিসে অনুপস্থিতি ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা

ছুটি ছাড়াই টানা তিন দিন অফিসে অনুপস্থিতি ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা

ডাকঘর থাকলেও নেই নিরাপদ কোনো ভবন

ডাকঘর থাকলেও নেই নিরাপদ কোনো ভবন

সৈয়দপুরে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত

সৈয়দপুরে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত

চাঁদপুরে রাতের আঁধারে কেয়ারটেকারের ওপর বর্বরোচিত হামলা

চাঁদপুরে রাতের আঁধারে কেয়ারটেকারের ওপর বর্বরোচিত হামলা

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম