স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের খাবারে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
asif
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
বাগেরহাট প্রতিনিধি-: বাগেরহাটের শরণখোলায় বর্ষার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও রাত পোহালেই অটো ভ্যান নিয়ে ছুটছে স্কুল ফিডিং এর খাবার নিয়ে স্কুলে স্কুলে। আবার কাঁচা রাস্তায় সীমাহীন দুর্ভোগ অতিক্রম করে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছে পুষ্টিকর টিফিন প্যাকেট দুধ, বনরুটি, ডিম, কলা ও বিস্কুট। নির্ধারিত সময়ে এসব খাবার পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত লড়তে হয় প্রকৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলার জনপদে এভাবেই চলছে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ধরে রাখতে এ কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা বেশি মনোযোগী থাকছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীরা পুষ্টির টিফিন হাতে পেয়ে আনন্দ উল্লাসে শ্রেণিকক্ষে মেতে ওঠে। এ কর্মসূচি চালুর পর শরণখোলার বিভিন্ন স্কুলে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুনীর আহমেদ জানিয়েছেন। শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ইউনিয়ন সাউথখালির এস বি তাফালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: বেলায়েত হোসেন, বকুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বশার খান, রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর মালিয়া রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মুক্তা, পশ্চিম কদমতলা কেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফ এম শামীম আহসান, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রুবেল, উত্তর খোন্তাকাটা মুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ জামাল জুয়েল, ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হারুন অর রশীদ ও বাংলাদেশ স্কাউট শরণখোলা উপজেলা কমিশনার মো: সোহরাব হোসেন, উপজেলা কাব লিডার শিক্ষক নেতা মিজানুর রহমান জানান, সকল বিদ্যালয় শ্রেণিতে উপস্থিতি বেড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয় পাঠানো আগ্রহ বাড়ছে। টিফিনের সময় স্কুলের আশেপাশে কিছু দোকানে বিক্রি হওয়া অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমছে। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের কিছু এলাকার রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয় স্কুলের খাবার নিয়ে। পুষ্টির ঘাটতি থাকা শিশুরা স্কুলে খাবার পাওয়ার পর তাদের মনোযোগ বেড়েছে শ্রেণিকক্ষে। ঝরে পড়ার হার কমাতেও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব দেখছেন তারা। বাগেরহাট জেলার মধ্যে শরণখোলায় স্কুল পর্যায়ে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন। শরণখোলায় রুটি, ডিম ও কলা সরবরাহকারী সংস্থা ওসাকার প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলিম আল রাজি মুক্তি জানান, প্রতিনিয়ত অটো ভ্যান, কর্দমাক্ত রাস্তায় পায়ে হেঁটে মাথায় করে বা নৌকায় স্কুলে স্কুলে এই স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। একইভাবে আকিজ কোম্পানি প্যাকেট দুধ ও প্রাণ কোম্পানি বিস্কুট স্কুলে সরবরাহ করছে। শরণখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুনীর আহমেদ এ প্রতিনিধিকে বলেন, উপজেলার ১১৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ হাজার ৮ শত ৩৪ জন শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। এ খাবার চালুর পর বিভিন্ন স্কুলে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আগে উপস্থিতির হার ছিল শতকরা ৭০/৭৫ জন। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৯০ প্লাসে। ঝরে পড়ার হার, দৈনন্দিন উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে করে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি কমবে, অন্যদিকে স্কুলে উপস্থিতি, ভর্তি এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ধারাবাহিকতাও শক্তিশালী হবে।
