Logo
Logo
×

সারাদেশ

সৈয়দপুরে বীমা গ্রাহকদের টাকা নিয়ে নানা অভিযোগ

asif

asif

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

সৈয়দপুরে বীমা গ্রাহকদের টাকা নিয়ে নানা অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি -
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধে গড়িমসি, মেয়াদপূর্তির পরও পাওনা না দেওয়া এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তিল তিল করে জমানো অর্থ বীমায় বিনিয়োগ করে মেয়াদ শেষে টাকা না পেয়ে অনেক গ্রাহক এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বীমা করার সময় অনেক প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিনিধিরা আকর্ষণীয় মুনাফা, দ্বিগুণ অর্থ ফেরতসহ নানা সুবিধার কথা বলে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিয়মিত কিস্তিতে বীমা করেন। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর পাওনা টাকা তুলতে গেলে শুরু হয় নানা অজুহাত। কখনো কাগজপত্রের কথা বলা হয়, আবার কখনো প্রধান কার্যালয় বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কোনো কোনো গ্রাহকের অভিযোগ, বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা মূল টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা পাচ্ছেন না। আবার মেয়াদপূর্তির আগেই আর্থিক সংকটের কারণে বীমা বন্ধ বা টাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হলে অনেক গ্রাহক প্রত্যাশিত সহযোগিতা পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি টাকা ফেরতের বিষয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে জানতে গেলে কোনো কোনো গ্রাহককে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সৈয়দপুরে অতীতে এমন অভিযোগের একটি বড় উদাহরণও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুেরন্সের সৈয়দপুর শাখার প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা আটকে থাকার অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক গ্রাহকের বীমার মেয়াদ পাঁচ থেকে আট বছর আগেই শেষ হলেও তারা টাকা পাননি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় শাখা সরিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, বছরের পর বছর কষ্ট করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। মেয়াদ শেষে সেই অর্থ দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে, ব্যবসা কিংবা সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো বীমা প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকেরা আরও বিপাকে পড়েন। স্থানীয় কর্মকর্তা বা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেও অনেকে কাক্সিক্ষত সমাধান পাচ্ছেন না। ফলে গ্রাহকদের এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। তবে বীমা খাতের সব প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে দায়ী করা যায় না। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রম সঠিক থাকলেও কতিপয় কর্মকর্তা বা এজেন্টের অনিয়ম, ভুল তথ্য প্রদান কিংবা গ্রাহকসেবার ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমাগ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে এবং তাদের জন্য অনলাইন বীমাগ্রাহক পোর্টালও চালু রেখেছে। ওই পোর্টালের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের পলিসির তথ্য, প্রিমিয়াম জমা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। এদিকে সরকারি জীবন বীমা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পলিসির শর্ত পূরণ হলে মেয়াদপূর্তির দাবি বীমাগ্রহীতার প্রাপ্য। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। সৈয়দপুরের সচেতন মহলের দাবি, শহরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের অবস্থা, স্থানীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম এবং এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেয়াদপূর্তির পরও যেসব গ্রাহক টাকা পাচ্ছেন না, তাদের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গ্রাহকদের স্বার্থে আইডিআরএ, সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো হলে বীমা খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

 

সম্পর্কিত খবর

উঁচু মাপের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

উঁচু মাপের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

সর্বস্ব হারিয়ে যখন পথে বসার উপক্রম ওমর ফারুক

সর্বস্ব হারিয়ে যখন পথে বসার উপক্রম ওমর ফারুক

তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে চরের মানুষের নাভিশ^াস

তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে চরের মানুষের নাভিশ^াস

শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি সংকটে চাঁদপুর আইএমটি

শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি সংকটে চাঁদপুর আইএমটি

গাবতলীতে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা

গাবতলীতে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা

দাকোপে সরকারি জায়গায় গড়ে উঠছে বসতবাড়িসহ স্থাপনা

দাকোপে সরকারি জায়গায় গড়ে উঠছে বসতবাড়িসহ স্থাপনা

Logo

সম্পাদক : এস.এম জাহিদ আনোয়ার শামীম