সৈয়দপুরে বেকারি শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় দিশেহারা মালিকরা
asif
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
নীলফামারী প্রতিনিধি - আটা, তেল, চিনি, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরিসহ বেকারি পণ্য উৎপাদনের প্রায় সব ধরনের উপকরণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিকদের মজুরি। তবে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে বেকারি পণ্যের দাম আগের অবস্থায় থাকায় চরম চাপের মুখে পড়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বেকারি শিল্পের মালিকরা। এতে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সৈয়দপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক বেকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার নারী-পুরুষ কর্মরত। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব বেকারি থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট, পাউরুটি, কেক ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। বেকারি মালিকদের অভিযোগ, গত কিছুদিনে উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আটা, তেলসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বেকারি পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে লোকসানের ঝুঁকি। বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মো. আখতার সিদ্দিকী পাপ্পু বলেন, দাম বেড়েছে সব ধরনের উপকরণের। এর সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। অথচ আমাদের উৎপাদিত মালামালের দাম আগেরটাই রয়েছে। আমরা এখন অনেকটা দিশেহারা। না পারছি ব্যবসা ধরে রাখতে, না পারছি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে। তিনি বলেন, বেকারি শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এ শিল্পের উদ্যোক্তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন চালিয়ে যেতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিষয়টি সরকারের নজরে এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বেকারি শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে ছোট ও মাঝারি বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে একদিকে উদ্যোক্তারা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারাতে পারেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেকারি শিল্পের কাঁচামালের বাজার স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেওয়া হলে এ খাতের উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপও কম রাখা সম্ভব হবে।
