জীবিকার তাগিদে শামুক তুলে বিক্রি করছেন মৎস্যজীবীরা
asif
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
রাজশাহী প্রতিনিধি-: রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিব নদীতে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নদীতে কাক্সিক্ষত মাছ না পেয়ে জীবিকার তাগিদে শামুক তুলে বিক্রি করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ফলে, মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবার গুলো। নদীতে সারা দিন শামুক তুলে একেক জন মৎস্যজীবী ২ শ’ টাকা থেকে আড়াই শ’ টাকা পাচ্ছেন। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম কাচ্ছেন তারা। এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার শিব নদী পাড়ের মালশিরা, মাদারীপুর, রঘুনাথপুর ও বাতাসপুর গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। তারা এই নদীতে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যান্য বছর এ নদীতে মাছের দেখা মিললেও এ বছর একদম মাছ নেই নদীতে। ফলে, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই তারা শামুক তুলছেন। তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির বাতাসপুর মৎস্যজীবী পাড়ার প্রকৃত মৎস্যজীবী হাবিল আলী বলেন, এক সময় এই নদী মাছে ভরপুর ছিল। গত বছরও কিছুটা মাছ পাওয়া গেছে। কিন্তু এ বছর একদম মাছ নেই। জীবিকার তাগিদে ৪ জন থেকে ৫ জন জেলে দলবদ্ধভাবে সারা দিনে ৫ থেকে ৬ বস্তা শামুক তুলছেন। প্রতি বস্তা শামুক ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। ১ জন মৎস্যজীবী দিনে ২শ’ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। পারিশো বাতাসপুর গ্রামের মিরাজ নামের আরেক মৎস্যজীবী বলেন, বর্তমানে পানি কমে যাওয়া, অবৈধভাবে দখল ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নদীতে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। ফলে জেলেরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাল ফেলেও মাছ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তারা নদী ও বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, এক সময় এই বিলের প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং মাছের মেলাও করা হতো। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই। এলাকার মৎস্যজীবীরা জানান, এই শামুক গুলো হাঁসের খাদ্য এবং চুন তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য বাজারে বিক্রি করা হয়। শামুক বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়েই কোনো মতে সংসার চলছে তাদের। বাতাসপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান সুজন বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের একমাত্র ভরসা এই শিব নদী। এ বছর নদীতে মাছ নেই। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিকল্প কোন কাজও নেই। দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন মৎস্য জীবীরা। শীতলী পাড়ার মৎস্যজীবী বিশু বলেন, শিব নদীর কোথাও মাছ নেই। এমনকি বিল কুমারী বিলেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর ডিসেম্বর মাসের দিকে বিল কুমারী বিলে মাছ না পেয়ে শামুক তুলে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। বিল কুমারী বিলে অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে তার ৪ ভাগের ১ ভাগও মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিলে পানি আছে কিন্তু তেমন মাছ নেই। সারা দিনে ৫শ’ টাকারও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সচেতন মহল বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এবং অবৈধ চাইনা দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির ছোট ছোট বাচ্চা মাছ অবাদে স্বীকার করার কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। দীর্ঘদিন আগে বিল কুমারী বিলে তৈরি অভয়াশ্রম সংস্কার না করায় বিলে পানি থাকে না। অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে শিব নদী ও বিল কুমারী বিলের মাছে ভরপুর থাকতো হাট বাজার এখন আর তা দেখা মিলছে না। তবে, তানোর উপজেলার খাস পুকুর গুলো মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে লিজ দেওয়ার নীতিমালা তৈরি করা হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। সমিতির সভাপতিরা ওই সমিতি গুলো প্রভাবশালীদের কাছে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। আর প্রকৃত মৎস্যজীবীরা হচ্ছেন বঞ্চিত। একাধীক মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। তারা কেউ কোন পুকুর চাষের সাথে জড়িত হতে পারছেন না। এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা মৎস্য অফিসার সাজু চৌধুরী বলেন, শিব নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছও কমে যাচ্ছে। বিল কুমারী বিলের অভয়াশ্রম সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা তৈরি করে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য অনেককেই গরু দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
