কালীগঞ্জে কিট সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ
asif
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি - ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তের কিট সংকট দেখা দেওয়ায় গত সোমবার থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এতে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮২ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু পরীক্ষার রোগীরা পরীক্ষা করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্য স্থানে। আবার কিট কবে এ হাসপাতালে আসবে তা দায়িত্বরত কর্মরত ডাক্তাররা বলতে পারছেন না। ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের তুলনামূলক কম খরচ হয়। এনএস ১ ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এ ছাড়া আইজিএম ও আইজিজি ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকা ফি দিয়ে করা যায়। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে রোগীদের প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ কালীগঞ্জ হাসপাতালে ৩ দিন যাবৎ কিটের অভাবে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন এ ব্যাপারে নেননি কোনো ব্যবস্থা। সঙ্গত কারণেই এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার পর্যন্ত নিয়মিত ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কিটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন করে কিট সরবরাহ করা হয়নি। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী শাহাদত হোসেন বলেন, চিকিৎসক ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে বলেছেন। কিন্তু ল্যাবে কিট না থাকায় পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেঙ্গু নিয়ে সরকার চিন্তিত হলেও কালীগঞ্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে যারা শিথিলতা দেখিয়েছেন তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি বলে আমি মনে করি। হাসপাতালে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী দীপান্বিতা বিশ^াস ডাক্তার দেখালে তাকে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বলা হয়। কিন্তু পরীক্ষা করতে গেলে সরকারি এ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষা হবে না। যে কারণে বাধ্য হয়ে তাদের দীপান্বিতাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কয়েক গুণ অর্থ ব্যয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদেরও পর্যাপ্ত কিট ছিল। সেখান থেকে কিছু কিট অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার কিটের মজুত হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।
