ঈশ^রদীতে সাড়ে সাত কোটি টাকার সেতুতে ফাটল, ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ
asif
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
পাবনা প্রতিনিধি-: পাবনার ঈশ^রদীতে দীর্ঘ ছয় বছর অপেক্ষার পরও শেষ হয়নি ঈশ^রদী উপজেলার লক্ষ্মীকু-া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল চরকুরুলিয়া গনির ঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি না করায় এটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। ফলে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দুই পাড়ের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চরকুরুলিয়া এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর ২০২১ সালে শুরু হয় সেতুটির নির্মাণ কাজ। প্রাথমিক অবস্থায় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজটি করেন যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। তবে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেতুটির মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঢিলেঢালা কাজ চালানোর পর সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদিকে যেমন নির্মাণ কাজে ধীরগতি ছিল, অন্যদিকে শুরু থেকেই সেতু নির্মাণে চরম নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ভাঙনের চিত্র দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো বহু বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ সেতু। সরেজমিনে দেখা যায়, কাগজে-কলমে সেতুটির কাজ শেষ দাবি করা হলেও বাস্তবে এখনো কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। দুই পাশে রাস্তা না থাকায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার এই সেতুটিতে সাধারণ মানুষ বা যানবাহন কেউ উঠতে পারছে না। সেতুটি চালু না হওয়ায় ওই অঞ্চলের কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে পরিবহনের জন্য প্রতিনিয়ত অন্তত ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেতুর নির্মাণ কাজে দ্রুতই দুর্নীতি ও অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মানসম্মত সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ করে সেতুটি যাতায়াতের উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানালেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ^াস দিয়েছেন তিনি।
